টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মেয়ের ওপর যৌতুক নির্যাতনের বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি এক ভুক্তভোগী নারী। উল্টো তদন্তের নামে অর্থ দাবি, অভিযোগ আমলে না নেওয়া এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঘাটাইল থানার এসআই আরিফ রব্বানীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী নারী উপজেলা খায়ের পাড়া গ্রামের মোঃ মোবারক আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগম।
পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলেয়া বেগমের মেয়ের সঙ্গে দুই বছর আগে পৌর এলাকার গরু হাটি পাশ্বে ফরমান আলী ছেলে মোঃ শাহিন বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার মেয়ের ওপর বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মারধর করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ নভেম্বর মেয়েকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে গেলে যৌতুকের দাবীতে কিল ঘুষি মেরে ছাদের উপর থেকে ফেলে দেয় এবং মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে যায়। বর্তমানে আমার মেয়ে পঙ্গু অবস্থায় জীবন যাপন করছে।
ভুক্তভোগী জানান, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৫ অক্টোবর ঘাটাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্বে থাকা ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ রব্বানীর কাছে দেওয়া হলে তিনি তদন্তের জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে দিলেও কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরো জানান, তদন্ত করে আসার পর বিবাদী আমার উপর আরো ভয়নায়ক রূপ ধারন করে। বিষয়টি থানায় জানানোর পর আমাকে গাল মন্দ করে এবং আমায় কাগজ পত্র ফেরৎ নিয়ে যেতে বলে এমনকি আমার বিষয়ে কোন তদন্ত করতে পারবে না বলে এস আই আরিফ রব্বানী জানিয়ে দেন। এবং থানায় থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা করবে না। কাল ক্ষেপন করে মামলার আলমত ও নষ্ট করে ফেলেও বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী মা ও মেয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আরিফ রব্বানী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কোনো খারাপ ব্যবহার করেননি এবং আলামত নষ্টের ঘটনাও ঘটেনি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি তার।
আরও পড়ুন:








