বৃহস্পতিবার

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩

রাঙামাটির লংগদু থেকে কুকুর শিকার করে মিজোরামে পাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:৩৩

শেয়ার

রাঙামাটির লংগদু থেকে কুকুর শিকার করে মিজোরামে পাচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর শিকার করে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। পরে নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে ভারতে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মিজোরামের বসন্তকালীন উৎসব চাপচার কুট সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে শিকার ও পাচারের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট আইনের ৭ ধারায় এ বিষয়ে শাস্তির বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরাম রাজ্যে কুকুর জবাই ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের মার্চে মিজোরাম বিধানসভায় মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার সংশোধন বিল পাসের মাধ্যমে কুকুরকে জবাই বা ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

কয়েকজন শিকারি দাবি করেছেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুকুর ধরেছেন।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে এবং উৎসব সামনে থাকায় শিকারের ঘটনা ঘটতে পারে।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয়। তিনি তথ্য দেন, কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগের বাহক হতে পারে এবং বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো এলাকায় টিকাদানকৃত কুকুর সরিয়ে নেওয়া হলে সেখানে শূন্যতা তৈরি হয় এবং টিকাবিহীন কুকুর এসে স্থান দখল করতে পারে। এ কারণে নির্বিচারে কুকুর অপসারণ নিরুৎসাহিত করতে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।