নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের মধ্যে মোটা অংকের নগদ অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রবিবার সকালে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় অবস্থিত ডিকেএমসি (DKMC) নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমাইয়া রূপগঞ্জ উপজেলার পাড়াগাঁও মধ্যপাড়া এলাকার কাউসার আহমেদ জুয়েলের মেয়ে।
মৃতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসব ব্যথা নিয়ে সুমাইয়াকে ডিকেএমসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অস্ত্রোপচার (সিজার) করা হয়। অপারেশন শেষে তাকে বেডে স্থানান্তর করা হয়।
এসময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে আইসিইউতে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে নিহতের বাবা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মোটা অংকের নগদ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে।
স্বজনদের অভিযোগ নিহতের চাচা জাহিদ আমির বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার ভাতিজির মৃত্যু হয়েছে। যেহেতু তাকে আর ফিরে পাব না, তাই সমঝোতার ভিত্তিতে মরদেহ নিয়ে এসেছি।
ডিকেএমসি হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, অপারেশনের পর রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। সেখানে শোয়া অবস্থায় তার স্বজনেরা পানি ও রুটি খাওয়ান। এতে খাবার শ্বাসনালীতে ঢুকে পড়ে এবং রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়। আমরা তাৎক্ষণিক আইসিইউতে পাঠাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এখানে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি ছিল না।”
ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। স্বজনেরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেছেন, আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খাবার শ্বাসনালীতে যাওয়ার কথা বলছেন। পরে উভয় পক্ষ মীমাংসায় গেলে আমরা ফিরে আসি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:








