রমজান এলেই যেখানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার খবর শোনা যায়, সেখানে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সৈয়দপুর। উত্তরের এই ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রের ইফতার বাজারে মিলছে মাত্র ২ টাকায় পিঁয়াজু আর ৩০ টাকায় মুরগি বিরিয়ানি।
বিকেল গড়াতেই শহরের বিভিন্ন হোটেল ও অস্থায়ী দোকানে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। জালি কাবাব, সাসলি, শাহি জিলাপি, পিঁয়াজু, নিমকি, আলু চপ, বেগুনি, চিড়া ভাজাসহ নানা ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করছেন বিক্রেতারা।
২ টাকায় ইফতার, ৩০ টাকায় বিরিয়ানি
শহরের সাহেবপাড়ার হানিফ মোড়ে জামিল হোটেলে পিঁয়াজু, বেগুনি ও আলু চপ প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ টাকায়। বুন্দিয়া পাওয়া যাচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে। আর মাত্র ৩০ টাকায় মিলছে এক প্লেট মুরগি বিরিয়ানি।
একইভাবে কলিম মোড়ের বাবু হোটেল এবং সৈয়দপুর প্রেসক্লাব-এর সামনে একটি হোটেলে ডিমচপ, আলু চপ ও পিঁয়াজু মাত্র ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যেন দাম কমানোর এক নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে পুরো শহরজুড়ে।
লাভ কম, বরকত বেশি
দোকানিরা জানান, সারাবছরই তারা লাভ করেন। রমজান মাসে ইচ্ছা করেই লাভ কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছেন। নিজেদের তৈরি করায় খরচ কম পড়ছে বলেও জানান তারা।
তাদের বিশ্বাস, এই মানবিক উদ্যোগে আল্লাহ অবশ্যই বরকত দেবেন।
স্বস্তিতে নিম্নআয়ের মানুষ
দিনমজুর সজিদ উদ্দিন ও রিকশাচালক কালু জানান, সারাদিন রোজা রেখে কাজ করার পর স্বল্প দামে ইফতার করতে পারছেন— এটি তাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বড় স্বস্তি।
তাদের ভাষায়, যেখানে রমজানে সবকিছুর দাম বাড়ে, সেখানে সৈয়দপুরে ইফতারের দাম কমে। এটাই আমাদের মানবিক সৈয়দপুর।
রমজানে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শহরজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে এবং স্বল্প আয়ের মানুষের মুখে ফুটিয়েছে তৃপ্তির হাসি।
আরও পড়ুন:








