সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা আজও দুর্বল এবং বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এখানকার স্থানীয়রা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে দূরবর্তী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময়মতো পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দূর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীপথের ঝুঁকি ও অতিরিক্ত খরচের কারণে এলাকার গর্ভবতী মা এবং নবজাতক শিশুদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, উমারপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম হলেও, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ এবং অবকাঠামোর অভাবে পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
গর্ভবতী মায়েরা প্রসবের সময় ঘোড়ার গাড়ি বা নৌকায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হন, যা তাদের জীবন ও নবজাতকের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি, এবং বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাত্রা করেই তারা হাসপাতালে পৌঁছান, তবে প্রায়ই এই যাত্রায় বিলম্ব হলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার কারণে প্রসূতির মৃত্যু বা নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
উমারপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন আরও জানান, সরকারি উদ্যোগে সরবরাহ করা ওষুধ ৬-৭ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার কারণে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যত অচল হয়ে পড়ছে।
এছাড়া, বর্তমান সরকারিভাবে প্রদত্ত স্বাস্থ্যসেবা চরাঞ্চলের মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই, স্থানীয় জনগণের দাবি, সরকারের উচিত ২৪ ঘণ্টার প্রসূতি সেবা, প্রশিক্ষিত ধাত্রী, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা।
আরও পড়ুন:








