শুক্রবার

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

সিরাজগঞ্জের ৬ আসনে ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:২৪

শেয়ার

সিরাজগঞ্জের ৬ আসনে ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জন প্রার্থী চার অঙ্কের ভোটও পাননি।

শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা যায়। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট অর্জনে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ–১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন জাতীয় পার্টির জহরুল ইসলাম (লাঙল, ২ হাজার ২৩৪ ভোট), গণ অধিকার পরিষদের মল্লিকা খাতুন (ট্রাক, ১ হাজার ১৭০) নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব (কেটলি, ৩২১) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সবুর (ঘোড়া, ২৬৩) এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২১৪। বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

সিরাজগঞ্জ–২ আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মুহিব্বুল্লাহ (হাতপাখা, ২ হাজার ১৬৭) বাসদের আব্দুল্লাহ আল মামুন (মই, ৮৬৪) সিপিবির আনোয়ার হোসেন (কাস্তে, ৭৬৯) গণ অধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান (ট্রাক, ৪১০) এবং জনতার দলের সোহেল রানা (কলম, ১৮১) মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬৬। বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ পুকু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

সিরাজগঞ্জ–৩ আসনে চার প্রার্থীর মধ্যে দুজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা জাতীয় পার্টির ফজলুল হক (লাঙল, ১ হাজার ৬৫৮) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ রেজা রবিন (ঘোড়া, ১ হাজার ৬) এ আসনে মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ৩৭। বিএনপির ভিপি আয়নুল হক ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

সিরাজগঞ্জ–৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। তারা জাতীয় পার্টির হিল্টন প্রামানিক (লাঙল, ১ হাজার ২১৩) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান (হাতপাখা, ২ হাজার ২১৬) এবং সিপিবির আব্দুল হাকিম (কাস্তে, ৬৯) মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫। এ আসনে জামায়াত মনোনীত রফিকুল ইসলাম খান ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

সিরাজগঞ্জ–৫ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারিয়েছেন। তারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুনাবী (হাতপাখা, ৫ হাজার ৭৫৯) জাতীয় পার্টির আকবার হোসেন (লাঙল, ১ হাজার ২২৪) সিপিবির মতিয়ার রহমান (কাস্তে, ৩২৮) এবং গণ অধিকার পরিষদের ইউসুফ আলী (ট্রাক, ২৩৫) মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩। ধানের শীষ প্রতীকের আমিরুল ইসলাম খান আলীম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

সবচেয়ে বেশি ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিরাজগঞ্জ–৬ আসনে। তাদের মধ্যে নয়জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের মিসবা উদ্দিন (হাতপাখা, ২ হাজার ৫৪০) বাসদের আনোয়ার হোসেন (মই, ৩৭৫) আমজনতার দলের আসাদুল হক (প্রজাপতি, ৬৪৯) জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন (লাঙল, ১ হাজার ৬২) জেএসডির ইলোরা খাতুন (তারা, ৮৮৪), এবি পার্টির আবু জাফর আনোয়ারুস সাদাত (ঈগল, ২৬৮) বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোশারফ হোসেন শহিদুল (মোমবাতি, ১ হাজার ১৩০) স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির (ঘোড়া, ৪২৭) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াসেক ইকবাল খান মজলিস (হেলিকপ্টার, ২৫২) মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৪। বিএনপির ডক্টর এম এ মুহিত ১ লাখ ৭০ হাজার ১২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বর্ণনামূলকভাবে জানান, নির্ধারিত হারে ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বিজয়ী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাড়া অন্যদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।



banner close
banner close