সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জন প্রার্থী চার অঙ্কের ভোটও পাননি।
শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা যায়। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট অর্জনে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ–১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন জাতীয় পার্টির জহরুল ইসলাম (লাঙল, ২ হাজার ২৩৪ ভোট), গণ অধিকার পরিষদের মল্লিকা খাতুন (ট্রাক, ১ হাজার ১৭০) নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব (কেটলি, ৩২১) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সবুর (ঘোড়া, ২৬৩) এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২১৪। বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ–২ আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মুহিব্বুল্লাহ (হাতপাখা, ২ হাজার ১৬৭) বাসদের আব্দুল্লাহ আল মামুন (মই, ৮৬৪) সিপিবির আনোয়ার হোসেন (কাস্তে, ৭৬৯) গণ অধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান (ট্রাক, ৪১০) এবং জনতার দলের সোহেল রানা (কলম, ১৮১) মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬৬। বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ পুকু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ–৩ আসনে চার প্রার্থীর মধ্যে দুজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা জাতীয় পার্টির ফজলুল হক (লাঙল, ১ হাজার ৬৫৮) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ রেজা রবিন (ঘোড়া, ১ হাজার ৬) এ আসনে মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ৩৭। বিএনপির ভিপি আয়নুল হক ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ–৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। তারা জাতীয় পার্টির হিল্টন প্রামানিক (লাঙল, ১ হাজার ২১৩) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান (হাতপাখা, ২ হাজার ২১৬) এবং সিপিবির আব্দুল হাকিম (কাস্তে, ৬৯) মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫। এ আসনে জামায়াত মনোনীত রফিকুল ইসলাম খান ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ–৫ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারিয়েছেন। তারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুনাবী (হাতপাখা, ৫ হাজার ৭৫৯) জাতীয় পার্টির আকবার হোসেন (লাঙল, ১ হাজার ২২৪) সিপিবির মতিয়ার রহমান (কাস্তে, ৩২৮) এবং গণ অধিকার পরিষদের ইউসুফ আলী (ট্রাক, ২৩৫) মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩। ধানের শীষ প্রতীকের আমিরুল ইসলাম খান আলীম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সবচেয়ে বেশি ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিরাজগঞ্জ–৬ আসনে। তাদের মধ্যে নয়জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের মিসবা উদ্দিন (হাতপাখা, ২ হাজার ৫৪০) বাসদের আনোয়ার হোসেন (মই, ৩৭৫) আমজনতার দলের আসাদুল হক (প্রজাপতি, ৬৪৯) জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন (লাঙল, ১ হাজার ৬২) জেএসডির ইলোরা খাতুন (তারা, ৮৮৪), এবি পার্টির আবু জাফর আনোয়ারুস সাদাত (ঈগল, ২৬৮) বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোশারফ হোসেন শহিদুল (মোমবাতি, ১ হাজার ১৩০) স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির (ঘোড়া, ৪২৭) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াসেক ইকবাল খান মজলিস (হেলিকপ্টার, ২৫২) মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৪। বিএনপির ডক্টর এম এ মুহিত ১ লাখ ৭০ হাজার ১২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বর্ণনামূলকভাবে জানান, নির্ধারিত হারে ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বিজয়ী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাড়া অন্যদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:








