মঙ্গলবার

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৮ মাঘ, ১৪৩২

সৈয়দপুরে আ.লীগ নেতাদের মাধ্যমে ভোটের টাকা বিতরণকালে জাপা এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ঘেরাও

নীলফামারী, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩১

শেয়ার

সৈয়দপুরে আ.লীগ নেতাদের মাধ্যমে ভোটের টাকা বিতরণকালে জাপা এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ঘেরাও
ছবি;বাংলা এডিশন

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের সৈয়দপুর নির্বাচনী অফিসে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে জনগণ কর্তৃক ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকার শহীদ বদিউজ্জামাল সড়ক (তিলখাজা রোড) সংলগ্ন ওই নির্বাচনী অফিসে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ ও মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এসময় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জাপা প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সৈয়দপুর পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক ও তার ছেলের মাধ্যমে ওই নির্বাচনী অফিস থেকে ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এসময় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নারী-পুরুষ দ্রুত পালিয়ে যায় এবং অফিসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখনও ভেতরে প্রায় ১৫-২০টি মোটরসাইকেল ও বেশ কয়েকজন লোক অবস্থান করছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম পুলিশসহ মোবাইল কোর্ট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রথমে সেখানে না দাঁড়িয়ে হুইসেল বাজিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের আটকিয়ে নির্বাচনী অফিসে তল্লাশি চালানোর দাবি জানায়। একপর্যায়ে জনতার চাপে প্রশাসন অফিসের গেটে অবস্থান নেয়, তবে গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর অফিসের গেট ও ভবনের বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে ভেতরে থাকা জাপা প্রার্থীর লোকজন পেছনের দিকের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায় এবং টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। এসময় বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এতে প্রায় ২০-২৫ জন সাধারণ মানুষ আহত হন। এরপর নির্বাচনী অফিসে তল্লাশি চালানো হয়।

এদিকে ঘটনার সময় কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে একটি কার ও একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন সৈয়দপুরে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ধরে। জনতার হাতে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেড প্রায় ৩৫ হাজার টাকাসহ আটক হন এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে জানা যায়, তিনি এনটিভির অনলাইন সংবাদকর্মী সাকিল। গভীর রাতে সৈয়দপুরে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম বলেন, জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে জাপা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে সেখানে কোনো টাকা বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জাপা প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের বিলম্বের কারণে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম তার নির্বাচনী অফিসে মব সৃষ্টি করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করেন। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে দায়ী করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলার বিল মাস্টারপাড়া এলাকায় কালো টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীরা জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমসহ তার দুটি গাড়ি আটক করেন। ওই সময় টাকার ব্যাগসহ দুইজন পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম বিএনপি প্রার্থী আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close