কানসাট অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ‘পল্লী বিদ্যুত আন্দোলন’-এর গুলিকাণ্ড আবারও আলোচনায় এসেছে ১১দলীয় জোটের জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায়।
কানসাট রাজবাড়ী মাঠে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় পল্লী বিদ্যুত আন্দোলনের গুলিকাণ্ড নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “কানসাট পল্লী বিদ্যুত আন্দোলনে গুলির নির্দেশদাতা ছিলেন বিএনপির নেতা শাহজাহান মিঞা। তার নির্দেশেই নিরীহ আন্দোলনকারীদের মৃত্যু ঘটে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির রাজনীতি সবসময় দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মধ্যেই আবর্তিত হয়েছে। সার সংকটে কৃষকের প্রাণহানি থেকে বিদ্যুতের ঘাটতি, সবই ছিল তাদের শাসনামলের বাস্তবতা।
সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১-দলীয় জোট মনোনীত জামায়াত প্রার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী ড. মাওলানা কেরামত আলী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফের রাজনীতি করে, মানুষের জীবনমান উন্নয়নই তাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বিএনপি রাজনীতিকে ঘুষ, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মামলা বাণিজ্যে পরিণত করেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই নারীদের নানাভাবে নির্যাতন করছে, অথচ তারা পরবর্তী সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপি নিজেদের ক্ষমতাসীন মনে করছে এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডের নামে জনগণকে ভুয়া প্রলোভন দেখাচ্ছে। অতীতে তারা ক্ষমতায় থাকাকালে সারের জন্য কৃষকদের প্রাণ দিতে হয়েছিল এবং দেশে তীব্র বিদ্যুত সংকট দেখা দিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ড. কেরামত আলী শিবগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, “আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, বরাদ্দ ১০০ টাকা এলে ১০০ টাকাই খরচ করা হবে। অতীতের মতো লুটপাট হবে না। আমরা শিবগঞ্জকে আদর্শ শিবগঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ্।” তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, নতুন রেললাইন স্থাপন, সোনামসজিদ–চাঁপাইনবাবগঞ্জ মালবাহী রেল চালু, আম গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সোনামসজিদকে ইকোনমিক জোনে রূপান্তর এবং শিবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের প্রধান কার্যালয় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া কৃষকদের কর্জে হাসানা প্রদান, পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা–জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় অন্যান্য বক্তারাও বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। তারা বলেন, পল্লী বিদ্যুত আন্দোলনে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহানের নির্দেশে বহু প্রাণ ঝরেছিল, এবং সারের সংকটে কৃষক হত্যার ঘটনাও ঘটানো হয়েছিল। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর মো. সাদিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সন্তান আলী আহমাদ মাবরুর। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আরও পড়ুন:








