আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় দৌলতখানে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থনে এক ব্যতিক্রমী ও নজরকাড়া গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সমর্থকদের পরনে ছিল সাদা কাফনের কাপড়, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার বিকালে দৌলতখান পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই গণমিছিলটি। এতে নেতৃত্ব দেন ভোলা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিম।
স্থানীয় রাজনীতিতে এই কাফনের কাপড় পরিহিত মিছিলটি কেবল সাধারণ কোনো প্রচারণা নয়, বরং একে একটি শক্তিশালী ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মিছিল থেকে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।
মিছিলে অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা জানান, তাদের এই বেশভূষা একটি বিশেষ বার্তা বহন করছে। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চান—কেউ যদি ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করে, তবে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। ‘ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত’—এই দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করতেই তারা কাফনের কাপড় পরে রাজপথে নেমেছেন।
গণমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুফতি ফজলুল করিম বলেন, “জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। কেউ যদি ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করে, তবে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকরা জীবন দিয়ে হলেও তা প্রতিরোধ করবে। কোনো প্রকার অন্যায় বা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না।”
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে এই জনপদকে অবৈধ চর দখল, ঘাস দখল, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করা হবে। আমরা এমন এক সমাজ গড়তে চাই যেখানে সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকবে।”
ব্যতিক্রমধর্মী এই কর্মসূচিকে ঘিরে পুরো দৌলতখান উপজেলায় উৎসব ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ এটিকে সাহসের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে নতুন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মনে করছেন।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী মিছিল।
আরও পড়ুন:








