ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। চারটি আসনে তুলনামূলক স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা থাকলেও দুটি আসনে দ্বিমুখী লড়াই স্পষ্ট।
সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি ছয়টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী চারটি আসনে সরাসরি এবং জোট–সমর্থিত প্রার্থীরা দুটি আসনে অংশ নিয়েছেন। দুটি আসনে নারী প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনি মাঠে না থাকলেও তাদের সমর্থক ভোটারদের অবস্থানকে কয়েকটি আসনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ–১
কাজিপুর উপজেলা ও সদর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির সেলিম রেজা ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা শাহীনুর আলম প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি, নাগরিক ঐক্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৪ জন; এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৬, নারী ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
সিরাজগঞ্জ–২
সদর উপজেলার একাংশ ও কামারখন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং জামায়াত–সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, গণঅধিকার পরিষদ, জনতার দলসহ একাধিক দলের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ–৩
রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির আয়নুল হক এবং ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহা. আব্দুর রউফ সরকার প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও মাঠে রয়েছেন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৭ জন; এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২২ হাজার ৭৩৭, নারী ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সাতজন।
সিরাজগঞ্জ–৪
উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির এম আকবর আলী ও জামায়াতে ইসলামীর রফিকুল ইসলাম খান প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। এ ছাড়া সিপিবি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ জন; এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৩৮ ও নারী ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৬।
সিরাজগঞ্জ–৫
বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির আমিরুল ইসলাম খান আলিম ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আলী আলম প্রচারণায় সক্রিয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও সিপিবির প্রার্থীরাও নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মোট ভোটার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৩২১ জন; এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৮ হাজার ৬৬৪, নারী ২ লাখ ৭ হাজার ৬৫৫ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুজন।
সিরাজগঞ্জ–৬
শাহজাদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে সর্বাধিক ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির এম এ মুহিত ও জোট–সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির এস এম সাইফ মোস্তাফিজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৭ জন; এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১২, নারী ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন।
নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি আসনে প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের পক্ষে প্রচার ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে জোট সমীকরণ, প্রার্থীদের সাংগঠনিক শক্তি এবং সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:








