শুক্রবার

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৪ মাঘ, ১৪৩২

চাঁদপুরে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

চাঁদপুর, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৫

শেয়ার

চাঁদপুরে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি
ছবি: বাংলা এডিশন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর শহর শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর শহরের বাইতুল আমিন চত্বর থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বাইতুল আমিন চত্বরে এসে শেষ হয়।

র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, সাবেক শহর সভাপতি মো. জুবায়ের হুসাইন, সাইফুল ইসলাম সবুজ খান, সুলতান মাহমুদ, সাবেক জেলা সভাপতি আকরাম হোসাইন এবং সাবেক শহর সেক্রেটারি আব্দুল হাই লাভলু।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নির্যাতন, নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পরও আমাদের ‘গুপ্ত সংগঠন’ বলা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কখনোই গুপ্ত ছিল না। আমরা বীরের বেশে রাজপথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।

তারা আরও বলেন, ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গন থেকে ইসলামী আদর্শে বলীয়ান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একদল তরুণ ছাত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পথচলা শুরু হয়।

বক্তারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি, সংগঠনের সকল শহীদ, জুলাইয়ের সকল শহীদ, শরিফ ওসমান বিন হাদি এবং গুম হওয়া নেতাকর্মীদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

সমাবেশে তারা বলেন, আমরা দেশকে দাসত্বমুক্ত ও স্বনির্ভরশীল দেখতে চাই। এ দেশের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী তরুণ। তাই তাদের সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই বাংলাদেশ বদলে যাবে। আমরা আগামীর বাংলাদেশ দেখতে চাই ইনসাফভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও যুববান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে।

তারা দুর্নীতি, হত্যা, গুম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা মাদকমুক্ত সমাজ চাই। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close