ভোলার বোরহানউদ্দিন থানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৫ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামিন লাভ ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএনপির পক্ষ থেকে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে বোরহানউদ্দিন থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
জামিনপ্রাপ্ত ৩৫ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের জামায়াত নেতা ও সক্রিয় কর্মী। জামিন লাভের পর তারা বিজ্ঞ আদালতের সম্মুখেই এক সংক্ষিপ্ত জমায়েতে অংশ নেন।
জামায়াত নেতাদের দাবি, মামলাগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করতেই এই ধরনের ‘গায়েবি’ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তারা বলেন, ভোলা-২ আসনে জামায়াতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি পক্ষ প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে।
অন্যদিকে, জামিন মঞ্জুরের সময় আদালত প্রাঙ্গণে জামায়াত কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।জামিন লাভের খবরে দলীয় নেতাকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ না থাকায় আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের জামিন দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে ভোলা-২ আসনের বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলা-মামলার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আজকের এই জামিন লাভের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষই যাতে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন:








