সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ও দুর্নীতিবাজ চৌধুরী নাফিজ শরাফতের ঘনিষ্ঠজন বলে খ্যাত শিল্প গ্রুপ আব্দুল মোনেমের বর্তমান চেয়ারম্যান এএসএম মাঈনুদ্দিন মোনেমমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ এসেছে বাংলা এডিশনের হাতে৷
এএসএম মাঈনুদ্দিন মোনেম তার মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড এর কর্মচারীদের প্রায় ৬ মাস ধরে বেতন দেন না৷ তার
আরেক প্রতিষ্ঠান ইগলু ফুডসের বেতন দিচ্ছেন না প্রায় ৮ মাস ধরে৷ তাছাড়া ইগলু আইসক্রিমের কর্মীরা গত ডিসেম্বর মাসের বেতন এখনো পাননি৷
জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার প্রতিটি বিদেশ সফরে সঙ্গী হতেন মাঈনুদ্দিন মোনেম। হাসিনার নির্দেশে নির্দিষ্ট কমিশন দিয়ে বাগিয়ে নিতেন বড় বড় প্রকল্পের কাজ৷
মাঈনুদ্দিনের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে, মাঈনুদ্দিন মোনেম সারাক্ষণ মানুষের কল রেকর্ড করেন৷ তার ডিজিটাল আর্কাইভে হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। সেই সঙ্গে হাসিনার মন্ত্রী ও এমপিদের কমিশন চাওয়া ও প্রদান বিষয়ে সমস্ত ড্যাটা রেকর্ড করা আছে মাঈনুদ্দিনের কাছে৷
মাঈনুদ্দিন মোনের আওয়ামী সরকারের সময় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ করেন৷ কিন্তু হাসিনার দাপট দেখিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করতেন না৷ চক্রবৃদ্ধি হারে সেই ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।
ঋণ প্রদান থেকে বাঁচলে চতুর মাঈনুদ্দিন ভাল ব্যবসা করা ইগলু আইসক্রিমে কৃত্রিম লোকশানের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন৷ গত ৬ মাস ধরে ইগলু আইসক্রিমের সকল সরবরাহকারীদের পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।
মাঈনুদ্দিন মোনেম তার প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীদের মারধর করেন। কথায় কথায় মা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ গালি দেন।
বিএনপির একজন বড় নেতার রেফারেন্স দিয়ে তিনি প্রায়শই বলেন, আমি হাসিনার লোক, কিন্তু আমার টিকিটি নাড়াবার ক্ষমতা কারো নেই৷
প্রায়শই কাপড় খুলে ফ্লোরে গড়াগড়ি খেতে খেতে তিনি বলেন, আই এম প্রাইম মিনিস্টার ম্যান! শেখ হাসিনাস ম্যান!
মাইনুদ্দিন ব্যায়াম করতে যান সোনারগাঁও হোটেলে। সেখানকার একটি সূত্র জানিয়েছেন, তিনি গভীর রাতে সুইমিং পুল বন্ধ হবার পর সুইমিং করতে যান৷ যখন তখন উলঙ্গ হয়ে যান৷ এবং হোটেল কর্মীদের অশ্রাব্য গালাগালি করেন।
জানা জায়, মাঈনুদ্দিন একবার হোটেলের এক বিদেশী দম্পতির সোনা বাথ নেবার সময় আপত্তিকর ভিডিও করেন। সেই দম্পতি হোটেল ম্যানেজমেন্ট এর কাছে মৌখিক অভিযোগ দিলে হোটেলটির তৎকালীন জিএম ঘটনাটি ধামাচাপা দেন।
আব্দুল মোনেম লিমিটেড এর একটি সূত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি সকল ইউনিটে গণ ছাঁটাই এর লিস্ট হচ্ছে৷ আর সেই ছাঁটাই এর আগেই কর্মীদের বেতন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে৷
প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
আরও পড়ুন:








