‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর একমাত্র পথ জাতীয় পার্টি সংসদে যাওয়া’ এমন বক্তব্য দিয়ে গণসংযোগ চালানোর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় পার্টির এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বড়ভিটা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সম্প্রতি ইউনিয়নের একটি হিন্দু সম্প্রদায়ের পল্লীতে জাতীয় পার্টির পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে এ বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হলে জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।
গণসংযোগকালে ফজলুল হক বলেন, “আমাদের আশা, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ মিলে লাঙ্গলের যেখানে যেখানে এমপি দাঁড়িয়েছে, সবাইকে এমপি বানানো হবে। এবার ২৪৩টি আসনে জাতীয় পার্টি এককভাবে মনোনয়ন দিয়েছে। এমনও হতে পারে যে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করবে। সরকার গঠন করলে শেখ হাসিনাকে দেশে নিয়ে আসা যাবে।”
তিনি আরও বলেন, "শেখ হাসিনাকে আনার একমাত্র পথ হচ্ছে জাতীয় পার্টির সংসদে যাওয়া। জাতীয় পার্টি সংসদে না গেলে শেখ হাসিনা এ জীবনে দেশে ফিরতে পারবে না, এমনকি তার লাশও দেশে আসবে না।”
এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভোটের দিন কেউ যেন পিছিয়ে না থাকেন। কোনো বাধা এলে জানাতে বলেন এবং দাবি করেন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী রয়েছে এবং দলীয় শক্তি দিয়ে সব প্রতিরোধ করা হবে। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন অর রশিদ মামুন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, “এই হলো সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ জাতীয় পার্টির অবস্থা। এরা আজীবন পরজীবী। নিজের কোনো অর্জন নেই।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও নানা মন্তব্য করেন ব্যবহারকারীরা। মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন লেখেন, “জাতীয় পার্টি আওয়ামী দালাল।” শহিদুল ইসলাম নামে একটি আইডি থেকে লেখা হয়, “এদের আগে ধরে ফাঁসি দেওয়া হোক।” মেহেদী হাসান প্রিয়ম লেখেন, “এরা জুলাইকে ওপেনলি বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে।” মোহাম্মদ জনি সরকার লেখেন, “জাতীয় পার্টিকে বয়কট করুন।” আলেফ উদ্দিন সরকার মন্তব্য করেন, “জাতীয় মলম পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হোক।” হাবিব আল ইসলাম লেখেন, “জাতির বেঈমান পার্টিকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা রেড জুলাইয়ের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন বলেন, "ভিডিওটি আমার নজরে এসেছে। গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। যারা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের কথা বলছে, ভোট চেয়ে ফ্যাসিস্টকে ফেরাতে চাচ্ছে, তারা তাদেরই দোসর। তাদেরও বয়কট করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:








