ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের সতন্ত্রপ্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দশমিনা উপজেলা নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সতন্ত্রপ্রার্থী হাসান মামুনের ঘোড়া প্রতীকের উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক এবং উপজেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুজ্জামান বাদল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীরা নিয়মিতভাবে সতন্ত্রপ্রার্থী হাসান মামুনকে নিয়ে মিথ্যাচার করছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আসছেন। নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে গভীর রাতে বহিরাগতদের এলাকায় প্রবেশ করানো হচ্ছে এবং দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফখরুজ্জামান বাদল আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সতন্ত্রপ্রার্থী হাসান মামুনের জীবন বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নুরুল হক নুর বিভিন্ন সময় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং সেই কালোটাকার মাধ্যমে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রভাবিত করে সতন্ত্রপ্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ও বিএনপির অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণ চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যার পর দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলাবাজারে অবস্থিত সতন্ত্রপ্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় চারজন গুরুতর আহত হন এবং আরও ৭-৮ জন সাধারণভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন বর্তমানে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে দাবি করা হয়। এছাড়া গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নেও সতন্ত্রপ্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর এবং সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নুরের এসব কর্মকাণ্ডকে নির্বাচনী আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আবদুল আলীম তালুকদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সহ-সভাপতি রুহুক আমিন মোল্লা ও মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল মৃধা, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান, শ্রমিক দলের সভাপতি অলিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার, কৃষক দলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক হারুন, মহিলা নেত্রী ডেইজি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা যোবায়ের হোসেন আক্কাচসহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন:








