বুধবার

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪ মাঘ, ১৪৩২

ভোট কেনার নতুন ফাঁদ ‘ফ্যামিলি কার্ড’, এটা আসলে ফাজলামি কার্ড: অধ্যাপক মাজেদুর রহমান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৮

শেয়ার

ভোট কেনার নতুন ফাঁদ ‘ফ্যামিলি কার্ড’, এটা আসলে ফাজলামি কার্ড: অধ্যাপক মাজেদুর রহমান
ছবি: বাংলা এডিশন

গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ভোট কেনার নতুন পদ্ধতি বের করা হয়েছে। আগে শোনা যেত ভোটের আগের রাতে টাকা দিয়ে ভোট কেনা হয়, এবার এক মাস আগেই আইডি কার্ড নিয়ে তথাকথিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করা হচ্ছে। এটা ফ্যামিলি কার্ড নয়, এটা ফাজলামি কার্ড। জনগণকে প্রতারক বানানো এবং প্রতারিত করার উদ্দেশ্যেই এসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভোট কেনার জন্য নাকি বিকাশে টাকা দেয়া হচ্ছে, আবার কিছু লোককে গ্রুপ বের করে কাজ করানো হচ্ছে। ভোট কেনার এই নতুন পদ্ধতি আগেভাগেই শুরু হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজনে নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক, এই সুন্দরগঞ্জে আমাদের কেউ পরাস্ত করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। এই সুন্দরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী পাঁচজন নেতাকে হারিয়েছে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল আজিজকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। তার লাশ দেশে আনা যায়নি, জানাযাও আদায় করা যায়নি। জুয়েল রানা, ফরিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সোহানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং শাহাবুল ইসলামকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতের উচ্চ মাকাম কামনা করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৯ ও ২০০১ সালে এই সুন্দরগঞ্জ থেকে জামায়াত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে আমি নিজে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমরা কাজ করে দেখাতে পেরেছি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাওলানা আব্দুল আজিজের সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আর কেউ করে দেখাতে পারেনি। জনগণ এখনো সেই উন্নয়নের কথা স্মরণ করে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে না দেখেই ব্যাটারি মার্কায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছিলেন। আমি নিজের ভোটটিও দিতে পারিনি। শপথ নিতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গেলে আমাকে শপথ নিতে দেওয়া হয়নি, বরং সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেলখানায় পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলাম। এরপর আবার বরখাস্ত করা হয়, মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। চার বছর আমাকে দায়িত্বে বসতে দেয়া হয়নি। অথচ যতদিন দায়িত্ব পালন করেছি, মানুষের উন্নয়ন ছাড়া আর কিছু করিনি। এক টাকার দুর্নীতিও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।

জাতীয় পর্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সারাদেশে জামায়াত থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীরা তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিন পয়সার দুর্নীতির প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। অথচ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে—দলকে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

তিনি বলেন, এমপি হওয়া আমাদের নেশা নয়। আমাদের নেশা হলো মানুষের উন্নয়ন, সমস্যার সমাধান এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব দিতে পারে—এটা আমরা প্রমাণ করেছি।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে মাজেদুর রহমান বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই কথা, দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশ দলীয় জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় যাবে—এই প্রত্যাশায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।



banner close
banner close