ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে বহাল থেকে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন কাউসার আহমেদ। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি একই কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। অথচ প্রচলিত সরকারি বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নেই। তবে সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এক যুগের বেশি সময় ধরে একই স্থানে বহাল রয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাউসার আহমেদ দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তার বদলি কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরি পাওয়া কাউসার আহমেদ তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আতাত করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, যার প্রভাব এখনও চলমান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কাউসার আহমেদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন জাহান আক্তার বাংলা এডিশনকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলা এডিশন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি অফিসের কর্মকর্তা কাউসারের দাপট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউসার আহমেদের নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অভিজাত দাতিয়ারার বন্ধন টাওয়ারে একটি আধুনিক ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ লাখ টাকা। এছাড়া শেখ হাসিনা সড়কে তার মালিকানায় রয়েছে ৮ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনে তার আরও একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৮৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি ভাদুঘর মৌজায় তার মালিকানায় রয়েছে ৮ শতাংশ খালি জমি, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
এছাড়াও ডিসি প্রজেক্ট (সমবায় প্রকল্প) এর আওতায় প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে তিনি আরও ৮ শতাংশ একটি প্লট বরাদ্দ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। প্রতিবেদনে তার স্ত্রীর কাছে প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এমনকি ২০২২ সালের একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নির্বাচনী প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগেও তার নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তার সাতজন আত্মীয় চাকরি পান।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন:








