রবিবার

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫ মাঘ, ১৪৩২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১: ৪০ বছরের আক্ষেপ ঘোচাতে আ. লীগকে কাছে টানছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৯

শেয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১: ৪০ বছরের আক্ষেপ ঘোচাতে আ. লীগকে কাছে টানছে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্ব উত্তরে অবস্থিত হাওরাঞ্চলের উপজেলা নাসিরনগর নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ১ আসন। আ. লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটি নির্বাচনে না থাকায় সংসদে নতুন দলের প্রতিনিধিত্ব দেখা দেয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে কখনো জয় লাভ করতে পারেনি বিএনপি। অপরদিকে দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও নতুন করে কৌশল সাজাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছে

যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলগুলো।

এই আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম. এ. হান্নান, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, খেলাফত মজলিশের এস. এম. শহিদ উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের হুসাইন আহমদ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা ইসলাম উদ্দিন দুলাল রয়েছেন।

এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য এস. এ. কে. একরামুজ্জামান সুখনসহ চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যার মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এবং আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুজ্জামান যাচাই-বাছাইয়ের পর মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছয়বার জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ সায়েদুল হক চারবার বিজয়ী হয়েছেন। জাতীয় পার্টি দুইবার এ আসন দখল করেছে। তবে এবার আসনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বিএনপি।

দীর্ঘ সময় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্বাচনী মাঠ অস্থির থাকলেও, বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল।

আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান সুখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দলটির বর্তমান চেয়ারপারসন তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হোন তিনি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর বিএনপির হাইকমান্ড থেকে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়৷ যার ফলে আসনটিতে বর্তমানে শক্ত অবস্থানে আছে বিএনপি।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. হান্নান ও দলের কর্মীরা নাসিরনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম ও বাজারে মতবিনিময় ও দল বেধে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. হান্নান জানান, এবার নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী। আগের নির্বাচনগুলোতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। নাসিরনগরের মানুষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা সকল আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরও ভোট পাব ইনশাআল্লাহ৷

২০১৩ সালের পর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে থাকা জামায়াতে ইসলামী নতুন কৌশল সাজাচ্ছে। তারা হিন্দু ও গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের লক্ষ্য করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে তারা ভোটারদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়া স্থানীয় নেতাদের সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে তারা ভোটারদের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা সাধারণ মানুষের অনেক ভালোবাসা পাচ্ছি, তারা আমাদের আশ্বাস দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ এবার ফলাফল দাঁড়িপাল্লার পক্ষেই আসবে।

সবমিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের নির্বাচনী হাওয়া এখন তুঙ্গে। একদিকে বিএনপি দীর্ঘ ৪০ বছরের ইতিহাস ভেঙ্গে জয়ী হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের মাঠ গুছাচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টিও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, মমতবিনিময় ও মাইক্রো-মিটিংয়ের মাধ্যমে সকল প্রার্থী তাদের উপস্থিতি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে থাকা অবস্থায় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরমে পৌঁছেছে।



banner close
banner close