চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) থেকে রামদাসহ ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত কর্মীর নাম নূর হোসেন বিপ্লব ওরফে আতঙ্ক বিপ্লব।
তিনি চবিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ‘আইএসএস’-এর কর্মী এবং তার বাবা শাহ আমানত হলের বাবুর্চি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি ‘চোরাই’ মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের কয়েকজন স্থানীয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিপ্লবের বিরোধ তৈরি হয়। বিপ্লব ফোনটি ফেরত চাইলেও টাকার অঙ্ক নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অমিল ছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতার মধ্যস্থতায় শাহ আমানত হলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষ জড়ো হয়। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিপ্লব ক্ষিপ্ত হয়ে রামদা হাতে নিয়ে হলে প্রবেশ করেন এবং প্রতিপক্ষ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে।আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিপ্লব জানান, সে স্থানীয় যুবলীগ নেতা হানিফের ভাই ইকবালের কর্মী। তবে তার দাবি, যারা অভিযোগকারী তারা আগে তার সাথেই ছাত্রলীগ করতেন, কিন্তু বর্তমানে ছাত্রদলের আশ্রয়ে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমার সঙ্গে পূর্বে রাজনীতি করা সহকর্মীরা বেইমানি করেছে। আমার রাগ তখনই হয়েছে, যখন ওরা আমার সঙ্গে এমন কাজ করেছে। আমি তখন রামদা নিয়ে তাদের ভয় দেখানো জন্য গিয়েছিলাম।’
অন্যদিকে, প্রক্টোরিয়াল বডি অভিযোগকারীদের মোবাইল পরীক্ষা করে তাদেরও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। মূলত পূর্বপরিচিত ও বন্ধু মহলের মধ্যেই এই বিরোধের সৃষ্টি হয়।চাকসুর আইন সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, ‘উভয় পক্ষই বহিরাগত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এ ধরনের বিরোধ মীমাংসার নামে বহিরাগতদের আনা মোটেও কাম্য নয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করি। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।’
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন:








