কয়েকদিনের অবিরাম কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের পর আজ ফরিদপুরের আকাশে অবশেষে দেখা মিলেছে সূর্যের। সকাল গড়াতেই মেঘ আর কুয়াশার আড়াল ভেঙে রোদের স্পর্শে শহর যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা শীতের কষ্টের পর এই রোদ ফরিদপুরবাসীর জন্য কিছুটা হলেও প্রশান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
এর আগে টানা কয়েকদিন ফরিদপুরে শীতের তীব্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর সূর্যের অনুপস্থিতিতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও রিকশাচালকদের সকাল শুরু হতো আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার মধ্য দিয়ে। শহরের মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাট এলাকায় অসহায় মানুষের শীতের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য।
শীতের সেই সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রভাব পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী দেরিতে স্কুলে পৌঁছায়, আবার কেউ কেউ ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার আশঙ্কায় ঘরেই থেকে যায়। হাসপাতালগুলোতে বাড়তে থাকে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি ছিল বেশি।
আজ সকালের রোদে সেই চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সূর্যের তাপে কুয়াশা দ্রুত কেটে যায়, রাস্তাঘাটে মানুষজনের চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। শীতের প্রকোপ পুরোপুরি না কাটলেও রোদের উপস্থিতিতে জনজীবনে ফিরেছে গতি। কাজে বের হওয়া মানুষদের মুখে স্বস্তির ভাব দেখা গেছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সূর্যের দেখা মিললেও শীত এখনো পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। সকাল ও রাতের দিকে ঠান্ডা অনুভূতি থাকবে আরও কিছুদিন। তাই শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের শীত থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ কুয়াশা আর তীব্র শীতের পর আজকের এই রোদ ফরিদপুরের মানুষের কাছে শুধু একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য নয় -এটি যেন কষ্টের মধ্যেও একটু আশার আলো।
আরও পড়ুন:








