চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় গাজী তাহমিদ খান (২৫) নামে এক জুলাই যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত তাহমিদ বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলমগীরের ছেলে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় হামলায় তাহমিদ আহত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বারইয়ারহাট পৌর বাজারের একটি দোকানে পায়ের ওপর পা তুলে বসে ছিলেন হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুবায়ের। এ সময় বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লিটনকে দেখে পা নামিয়ে না বসায় লিটন জুবায়েরকে লাথি মারেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা চলে যান। পরে লিটন ও জুবায়ের নিজ নিজ এলাকা জামালপুর ও হিঙ্গুলীর লোকজন নিয়ে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষের স্থানেই থাকা তাহমিদ, রায়হান, মোহন দে, আবির, মোজাম্মেলসহ ৮-১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে জানান, বুধবার বিকেলে লিটন ভাইয়ের সঙ্গে জুবায়েরের ঝামেলার বিষয়টি মিমাংসার জন্য আমরা কয়েকজন মিলে ট্রাফিক মোড়ে যাই। সেখানে যাওয়ার পর কথা বলার এক পর্যায়ে লিটন ভাইয়ের জামালপুর এলাকার সবাই আমাদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। তাহমিদ কখন সেখানে গেছে বলতে পারি না। সে আমাদের এলাকার হওয়ায় তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে চমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত তাহমিদের বাবা আলমগীর বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে এভাবে মেরে ফেলল? ও তো কোনো দোষ করেনি। যদিও দোষ করে থাকে তাহলে আমি বিচার করতাম। শেষ করে দিতে হলো? আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লিটন বলেন, ঘটনার পূর্বে এলাকায় ছেলেদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় যুবায়েরের সঙ্গে আমার হাতাহাতি হয়। এরপর তারা বারইয়ারহাট চলে যায়। সেখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এরপর কী হয়েছে আমার জানা নেই। অভ্যন্তরীণ পূর্বশত্রুতার জেরে এমনটা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, জুনিয়র–সিনিয়র দ্বন্দ্বে বিএনপির একই গ্রুপের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তাহমিদ নামে একজন নিহত হয়েছে। তার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিজ বাড়ি পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি।
আরও পড়ুন:








