কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি অবৈধ ইটভাটা। এর মধ্যে পাঁচ থেকে সাতটির মালিকানা তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাট মিয়া ও তার ভাইদের—এমন অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও থামেনি ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম। পরিবেশের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই ভাটাগুলোতে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ ও টায়ার। এতে তীব্র বায়ুদূষণের পাশাপাশি আশপাশের ফসলি জমির উৎপাদন কমে গেছে। প্রতিদিনই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে রাফিয়া ব্রিকস, জেপিএল ব্রিকস, নাজির ব্রিকস, জিকজ্যাক ব্রিকস, ইমরান ব্রিকস ও বেপারী ব্রিকসসহ একাধিক ভাটা সক্রিয় রয়েছে। এসব ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, এলার্জি ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর বা প্রশাসনের অভিযান এলেই মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ভাটা মালিকরা ‘ম্যানেজ’ করে তাদের। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান লাট মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, “ইটভাটার ধোঁয়ায় আমাদের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বার বার চিঠি দিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা পাচ্ছি না।”
ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত এলাকা ও সরকারি স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই একাধিক ভাটা চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া বলেন, “ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। গত এক বছরে এ এলাকায় এত অভিযান আগে হয়নি। শিগগিরই আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন:








