রবিবার

৫ জুলাই, ২০২৬ ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩

অনলাইন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ' চাকুরির প্রলোভনে' ভারতে পাচার

​ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ২১:২১

শেয়ার

অনলাইন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ' চাকুরির প্রলোভনে' ভারতে পাচার
ছবি: বাংলা এডিশন

অনলাইন প্রেমের সম্পর্ক এবং বিদেশে 'ভালো চাকরির' প্রলোভন দেখিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের রত্না নামের এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে ভারতে পাচার করা হয়েছে।

নিখোঁজ এই ছাত্রীর নাম রত্না (বয়স ১৮)। ২৩ দিন আগে কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রত্নার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরবর্তীতে রত্নার মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে একজনকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করেই পাচারকারী চক্র তাকে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে নিয়ে গেছে।

জানা যায়, ১৭ বছর আগে রত্নার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। রত্নার মা এরপর আর বিয়ে করেননি। একমাত্র মেয়েকে ঘিরেই তার সমস্ত স্বপ্ন ও জীবন।

রত্নার মা বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,"আমি শুধু একটি কথাই বলব, আমার মেয়েটাকে আমি ফেরত চাই। আমার মেয়ে বলতেছিল আমাকে চাকরির জন্য ১২ দিনের একটি ট্রেনিং করানো হচ্ছে হলপাড়ায়! তারা ওকে নাকি ভালো চাকরির কথা বলে বাইরে নিয়ে গেছে। এখন আমি আমার মেয়ে ছাড়া কিভাবে বাঁচব?"

রত্নার নানী, যিনি তার মেয়েকে (রত্নার মা) একাকী জীবনে সাহস যুগিয়েছেন, তিনি এখন নাতির জন্য বিলাপ করছেন।

রত্নার নানী বলেন,"আমরা গরিব মানুষ, সরল-সোজা। আমার নাতনিটা কি আদৌ মানুষের কাছে ফিরবে? ওকে দ্রুত ফিরিয়ে এনে দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই আমরা। সমাজের অন্য মেয়েদের যেন এমন সর্বনাশ না হয়।"

তদন্তে জানা গেছে, পাচারকারী চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে রত্নার সঙ্গে প্রথমে অনলাইনে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। পরবর্তীতে তাকে দেশের বাইরে ভালো বেতনে চাকরির লোভ দেখানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এই চক্রটি পুরনো মানব পাচার চক্রের মতো অবৈধ পথে পাচার না করে, রত্নার নামে ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে তাকে আইনগত পথেই সীমান্ত পার করিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। এই বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করায় রত্নাকে খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন,

"ইতিমধ্যেই আমরা মানব পাচারকারী চক্রের একজনকে আটক করেছি এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যেন সেই মেয়েটিকে তার মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিতে পারি, সেই লক্ষ্যেই আমাদের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক সহায়তায় তাকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।"



আরও পড়ুন:

banner close
banner close