গাজীপুরের টঙ্গীতে নাগরিক সনদে স্বাক্ষর নিতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫০ নং ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা মো. আল আমীন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-০১ (টঙ্গী) জোনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের কক্ষের সামনে সকাল থেকেই সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কর্মকর্তা প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরিতে অফিসে আসেন এবং নিজের ইচ্ছেমতো সময় অনুযায়ী কাজ করেন।
ভুক্তভোগী আল আমীন জানান,গত বৃহস্পতিবার “দুপুর ১২টার দিকে আমি আমার বৃদ্ধ মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে নাগরিক সনদে স্বাক্ষরের জন্য অফিসে যাই। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা রুমের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। পরে ভিতরে গিয়ে দেখি, তিনি সরকারি কাজ বন্ধ রেখে ধূমপান করছেন। প্রতিবাদ করায় তিনি অসন্তুষ্ট হন এবং আমার কাজটি আরও বিলম্বিত করেন।”
এ ঘটনার পর আল আমীন বিষয়টি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করলে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টের কমেন্টে অনেকে কর্মকর্তার আচরণের সমালোচনা করেন।
একজন লিখেছেন, “ঘটনা সত্য, উনি অফিসে বসেই সিগারেট খান।”
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “যেখানে অন্যায়, সেখানেই প্রতিবাদ হওয়া উচিত।”
মোশারফ হোসেন নামের আরেকজন লেখেন, “সঠিক তদন্ত করে বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি অফিসে নাগরিক সেবা নিতে গেলে এমন হয়রানি নতুন নয়। প্রতিদিনই নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের প্রতি।
বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি আগে ধূমপান করতাম, এখন করি না। স্থানীয় কাউন্সিলর না থাকায় বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অনেক সময় মানুষকে চিনতে সমস্যা হয়, এতে সামান্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি হতে পারে।”
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মুহাম্মদ সোহেল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








