কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’কর্মসূচির ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনগুলোর জোট ‘জুলাই ঐক্য’। এছাড়া আগামীকাল বুধবার শেখ হাসিনার ফাঁসি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের অবরোধ কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করছেন জুলাই ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক মোসাদ্দেক ইবনে মোহাম্মদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যাকারি ও সন্ত্রাসীদের দল আওয়ামী, যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তার দোসররা অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণসহ সাধারণ মানুষের জান মালের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ১৪০০-এর অধিক ছাত্রজনতা শহিদ ও ৩২ হাজার আহত ভাইবোনদের রক্ত মাড়িয়ে আমরা স্বৈরাচারী হাসিনার পতন ঘটিয়েছি। গণ-অভ্যুত্থান পরিবর্তী সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি ছিল তা গণহত্যাকারীদের বিচার। আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল খুনি হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই দিনটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশাসনের নিরবতা সুযোগ নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে গণহত্যাকারীরা।
জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে বারবার প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি তোলা হলেও তার দৃশ্যমান কোন কিছু লক্ষ্য হয়নি, বলে ওই সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে। এর বাহিরে কোনো প্রকার যদি, কিন্তু, অথবা এসব বিষয় ছাত্রজনতা গ্রহণ করবে না। অভিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত না নিলে- শহিদ পরিবার, আহত এবং জুলাইয়ের ছাত্র জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথ থেকেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। ভারতের তৈরি ৭২-এর মুজিববাদী সংবিধান দিয়ে চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। হাসিনা সরকারের পতনের মধ্যদিয়ে ভারতের আধিপত্য কিছুটা কমলেও, বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় এজেন্টদের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শেষে তারা ২ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেগুলো হলো- খুনি হাসিনার ফাঁসি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল এবং আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদে ১৩ তারিখ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান কর্মসূচি।
এসময় জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:








