মঙ্গলবার

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

স্ত্রীর সঙ্গে বাবার অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিশোধে নিতে বাবাকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৫০

শেয়ার

স্ত্রীর সঙ্গে বাবার অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিশোধে নিতে বাবাকে হত্যা
বাংলা এডিশন

পছন্দের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি পরিবার। পরিবারের পছন্দে বিয়ে করতে হয় ফারুককে। কিন্তু বিয়ের পরই শুরু হয় তার জীবনের দুঃস্বপ্ননিজের স্ত্রী ও বাবা, এমনকি ভাইয়ের সঙ্গে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের খবর জানতে পারেন তিনি। একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও ঘটে যায়। কিন্তু এত অপমান মেনে নিতে পারেননি ফারুক। প্রতিশোধ নিতে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের সন্ধানে বাবাকে নিয়ে দূর জেলায় যান ফারুক। সুযোগ বুঝে রবিবার রাতে ঘুমন্ত বাবাকে কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি।

গ্রেপ্তারের পর সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে মাদারীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে দোষ স্বীকার করে এমন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন ফারুক (২৭)। রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলম। নিহত মতিউর ইসলাম চাপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন।

এএসপি জাহাঙ্গীর আলম জানান, মতিউর ও তার ছেলে ফারুক কাজের সন্ধানে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে রসুন বপনের কাজে যান। রোববার রাতে তারা একসঙ্গে খাবার খেয়ে একই বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে মতিউর তার সাবেক পুত্রবধূর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছিলেন। পাশের ঘরে বসে সিগারেট খাচ্ছিল ফারুক। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়লে ফারুক পাশের রুমে লুকিয়ে রাখা কোদাল নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত বাবার শরীরে আঘাত করতে থাকে। মাত্র আড়াই মিনিটে ১৭টি কোপ দেয় সে।

মতিউরের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ফারুক লাশের পাশে বসেই সিগারেট ধরিয়ে টানতে থাকে। শব্দ পেয়ে বাড়ির মালিকের ছেলে ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মতিউরকে দেখতে পান। তখন ফারুককে নির্বিকারভাবে বসে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে শিবচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ফারুককে গ্রেপ্তার করে। হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল, রক্তমাখা কাপড়সহ অন্যান্য আলামতও জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় ফারুক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।