পলাতক হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বর। এ দিন ঘিরে সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা এবং গাড়িতে আগুন দিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করাসহ নানা অপতৎপরতার তথ্য ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, ১৩ নভেম্বর ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানান তথ্য ছড়াচ্ছে। আর এসব তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ হতে নেওয়া হচ্ছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা এরই মধ্যে শুরু করেছে আভিযানিক বিভিন্ন কার্যক্রম। প্রত্যেক ক্রাইম ডিভিশনেই বাড়ানো হয়েছে আভিযানিক টিম। নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে নেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা। দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অপতৎপরতা ঠেকাতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মাঠে থাকবে বিভিন্ন গণ অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো।
শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ নামক একটি ফেসবুক পেইজে আওয়ামী নবীন ঐক্য পরিষদের দলীয় প্যাডে নাশকতার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে সেখানে কেবল ১৩ নভেম্বর নয়, যতদিন তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না হবে; ততদিন এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাশকতার এমন হুমকিকে স্বাভাবিকভাবে দেখছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণ অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে কোনো দল বা গোষ্ঠী বিশেষ কিছু ঘটাবে বলে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচার আছে। এসব অপপ্রচারকে সামনে রেখে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি অতীতে যেভাবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে, এবারও তেমন কিছু করার চেষ্টা করছে। আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না পুলিশ। পুলিশ শক্ত অবস্থানে আছে। চেকপোস্ট বাড়ানোর পাশাপাশি তল্লাশি কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া আছে। চলমান অভিযান ১০ নভেম্বর থেকে অনেক বেশি জোরালো হবে। তাছাড়া ১৩ নভেম্বরকে সামনে রেখে নজরদারিতে রাখা হয়েছে ফ্যাসিস্টের বেশকিছু দোসরকে। যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে তাদের একটি তালিকাও তৈরি করেছে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। সেই তালিকা ধরে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে।
বৈশম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেরপুর জেলার আহবায়ক মামুনুর রহমান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত ১৪ মাসে তারা শেরপুরে একটি ঝটিকা মিছিল করেছিল। পলাতক খুনীরা কোনভাবেই শেরপুরের জমিনে তাদের কৌশল বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে নিষিদ্ধ দলের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঠেকাতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
গণ অধিকার পরিষদের জেলার আহবায়ক আরিফুর রহমান বলেন, পতিত হাসিনার প্রেতাত্মাদের হুমকি ধামকি এখন আর মানুষ বিশ্বাস করেনা। এদের রুখতে আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে সজাগ রয়েছেন।
এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল হাসান দেওয়ান বলেন, নভেম্বর ডিসেম্বর বুঝিনা। খুনী হাসিনার দলের কোন কার্যক্রম শেরপুরে হতে পারবে না। আমাদের ভাইদের যারা পাখির মতো হত্যা করেছে, আমরা বেঁচে থাকতে সেই খুনীদের কার্যক্রম হতে দিবো না।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, ১৭ বছর যারা এদেশের ভিন্নমতের নাগরিকদের উপর হামলা মামলাসহ স্টিম রোলার চালিয়েছে তাদের ফাঁকাবুলি এখন আর জনগণ বিশ্বাস করেনা। আমাদের দলের প্রত্যেকটা নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ভাই বোনেরা চোখ কান খোলা রেখেছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরদের কার্যক্রম ঠেকাতে।
জেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, যারা পালিয়ে গেছে এবং পালিয়ে থেকে ফাঁকা আওয়াজ দেয়; সেই ফ্যাসিস্টদের কোন কার্যক্রম শেরপুরের মাটিতে হতে দিব না। আমাদের মূলদল, ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিকরা পতিত হাসিনার দোসরদের প্রতিহত করতে মাঠে সজাগ রয়েছেন।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. মেহেদী হাসান বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তায় সতর্কতা সহিত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাছাড়া যে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে প্রস্তুত বিজিবির সদস্যরা।
শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বাংলা এডিশনকে বলেন, শেরপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যপারে পুলিশ অবগত আছে। আময়া ইতিমধ্যেই টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছি। অবৈধ কর্মকাণ্ড, নাশকতা বা সংঘর্ষের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরের প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তাছাড়া আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়েছি। যেখান থেকে যে ধরনের তথ্য পাচ্ছি সব ধরনের তথ্যকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। বিভিন্ন মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনে যারা অর্থায়ন করছে, তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ সজাগ আছে ২৪ ঘণ্টা, সামনেও সজাগ থাকবে ২৪ ঘণ্টাই।
আরও পড়ুন:








