শনিবার

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রকাশ; কুষ্টিয়ার সেই বিতর্কিত ডিসির বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৪৯

আপডেট: ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:০৩

শেয়ার

বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রকাশ; কুষ্টিয়ার  সেই বিতর্কিত ডিসির বদলি
ছবি: বাংলা এডিশন

অবশেষে বহুল সমালোচিত, বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মাত্র আড়াই মাসে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলা এডিশন।

বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন করেছেন ছাত্র জনতা। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলো তদন্ত করে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের মানুষ।

সচেতন মহলের লোকজন বলেন, কুষ্টিয়ায় আসার পর থেকে ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মাত্র আড়াই মাসে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। লালন মেলায় মাদকের হাট বসিয়েছিলেন তিনি। লালন মেলায় ইলিশ ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। এছাড়াও লালন মেলায় খাস কালেকশনের নামে দুর্নীতি করেছেন। সিভিল সার্জন অফিসে নিয়োগ বানিজ্যের সাথেও তিনি জড়িত ছিলেন।

তারা আরও বলেন, কুষ্টিয়া শহরের সরকারি কলেজ মোড়ে অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ ও ঘুষ বাণিজ্যের সাথেও এই দুর্নীতিবাজ ডিসি জড়িত। ২৮টি অবৈধ দোকান মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে পুনরায় নির্মাণ শুরু হয়েছে, যা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এসব অবৈধ দোকান পুনর্নির্মাণে প্রায় তিন কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। লালন মেলায় কয়েক কোটি টাকা অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন এই ডিসি। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত। সে কুষ্টিয়া আসার পর থেকে অনেক দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতি অনিয়য়ের মাধ্যমে সে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হোক। তাহলে তার অনিয়ম দুর্নীতির খোঁজ পাওয়া যাবে। তদন্তের মাধ্যমে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শনিবার (৮ নভেম্বর) তাকে কুষ্টিয়া থেকে হবিগঞ্জে বদলি করেন। এর আগে গত ২৫ আগস্ট তাকে পটুয়াখালী থেকে কুষ্টিয়ায় বদলি করে সরকার। ২৮ আগস্ট কুষ্টিয়ার ডিসি হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি অনিয়ম দুর্নীতিতে মেতে উঠেন। এছাড়াও পটুয়াখালীতে ডিসির দায়িত্ব পালনকালেও তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্র জনতা। তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করা হয়।

ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম প্রধান সংগঠক সুলতান মারুফ তালহা বলেন, কুষ্টিয়া হতে সদ্য বিদায়ী ডিসি আরেফিন সাহেবের ২ মাসের আমলনামা অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিভাগীয় তদন্তের দাবি রাখে। উনি কুষ্টিয়াতে যোগদান পরবর্তী স্বল্প সময়েই যে পরিমান দুর্নীতির নজির স্থাপন করেছেন তা ফ্যাসিস্ট সময়ের দুর্নীতি কেউ হার মানে। উনার সাম্প্রতিক দুর্নীতির পাহাড়কে আমরা কুষ্টিয়ার দুর্নীতি বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে উনার কুষ্টিয়া হতে ট্রান্সফার হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এভাবে শুধুমাত্র বদলি কোন সমাধান নয়, বরং দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করার জন্য সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

সমালোচিত, বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের বদলির খবর জানাজানি হলে সচেতন মহলের মানুষ তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো-

গণমাধ্যমকর্মী রফিকুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, 'পটুয়াখালী থেকে বি'তা'ড়িত হয়ে কুষ্টিয়ার ঘাড়ে চেপেছিলো এই 'আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন' (ডিসি)। অবশেষে কুষ্টিয়া থেকেও বি'তা'ড়িত হয়ে হবিগঞ্জের ঘাড়ে চাপলো। মাঝ থেকে কুষ্টিয়া লালন মেলা উপলক্ষে যা উপার্জন করেছে সেটা দিয়ে তার কয়েক প্রজন্ম কেটে যাওয়ার কথা। এরা যেখানে যায় সেখানেই দু'র্নী'তির সম্রাজ্য গড়ে তোলে। হওয়ার কথা ছিলো গোড়া থেকে নির্মূল, কিন্তু সেটা না করে বদলির মাধ্যমে এদের মাঝে কি পরিবর্তন দেখে বুঝে আসে না।'

মনজুর এহসান চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কুষ্টিয়ায় যোগদান করে নানান বিতর্কে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ উঠে। মাত্র দুই মাস ১০ দিনেই তিনি যেসব বিতর্কিত কাজ করেছেন তা হচ্ছে, লালন মেলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, সারা বিশ্বে যা নিয়ে সম্মান হানি হয়েছে কুষ্টিয়াসহ সরকারের। সরকারি ভাবে ৫৫ লাখ টাকা সাধুদের খাওয়ানোর জন‍্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ইলিশ মাছের জায়গায টেম্পু ইলিশ (৩/৪টা কেজি) দিয়ে টাকা আত্মসাত। কলেজ মোড়ের যানজট নিরসনকল্পে দোকান উচ্ছেদ করে রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তার ৩দিনের মধ্যে দোকান প্রতি ৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে অবৈধ ভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় দোকান তৈরীর অনুমতি দেন। সিভিল সার্জন আফিসের নিয়োগ বাণিজ্য তার সম্পৃক্ততা বেশ আলোচিত হয়। তাকে হবিগঞ্জ জেলায় বদলি করা হয়েছে। জনাব আরেফীন পটুয়াখালী থাকা অবস্থায় জনগণের জমির সরকারি ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে ১০% দাবী করা নিয়ে তার বিরুদ্ধে অন্দোলন হয়। বদলি কোনো শাস্তি নয় এই বিতর্কিত ডিএসকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া খুবই জরুরী। নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক ইকবাল হোসেন।

কুষ্টিয়া জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক এম ডি বেলাল হোসেন বাঁধন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কি ডিসি সাহেব? কুষ্টিয়া আপনার ব্যাক্তিগত সাম্রাজ্য? কিন্ত রাজা হইয়ে ২ মাস ও টিকতে না পেরে কুষ্টিয়ার রাজত্ব হারালেন? রাজত্বের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য আজই কলিকাতা হারবালে যোগাযোগ করুন, নইলে অনবরত এভাবেই দ্রুত পতন ঘটতে থাকবে, বিঃদ্রঃ কুষ্টিয়া ডিসি ক্লোজড।

সচেতন মহলের রবিন আহমেদ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কুষ্টিয়াতে নতুন জেলা প্রশাসক আসার পর থেকেই দুর্নীতি ঘুষ অনিয়ম একের পর এক বেড়েই চলেছে। এর পূর্বে কুষ্টিয়ায় এমন ঘটনা ঘটে নি।

আরেক ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে- এমন জেলাপ্রশাসক চাইনা কুষ্টিয়াবাসী! কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন চলতি বছ্রের ২৮ আগস্ট কুষ্টিয়ায় যোগদান করে নানান বিতর্কে নিজেকে জড়িয়ে আলোচনা সমালোচনায় আসেন। মাত্র ২ মাস ১০ দিনেই তিনি যেসব বিতর্কিত কাজ করেছেন তা হচ্ছে, লালন মেলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, সারা বিশ্বে যা নিয়ে সম্মান হানি হয়েছে কুষ্টিয়াসহ সরকারের। সরকারি ভাবে ৫৫ লাখ টাকা সাধুদের খাওয়ানোর জন‍্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ইলিশ মাছের জায়গায টেম্পু ইলিশ (৩/৪টা কেজি) দিয়ে টাকা আত্মসাত। কলেজ মোড়ের যানজট নিরসনকল্পে দোকান উচ্ছেদ করে রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তার ৩দিনের মধ্যে দোকান প্রতি ৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে অবৈধ ভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় দোকান তৈরীর অনুমতি দেন। সিভিল সার্জন আফিসের নিয়োগ বাণিজ্য তার সম্পৃক্ততা বেশ আলোচিত হয়। তাকে হবিগঞ্জ জেলায় বদলি করা হয়েছে। প্রাণের কুষ্টিয়ায় এমন জেলা প্রশাসক চাইনা কুষ্টিয়াবাসী।



banner close
banner close