শনিবার

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

দশমিনায় ছয় দিন ধরে তালাবদ্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:২১

শেয়ার

দশমিনায় ছয় দিন ধরে তালাবদ্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ
ছবি: বাংলা এডিশন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক ছয় দিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় কয়েক হাজার সেবাগ্রহীতা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

গত রবিবার (২ নভেম্বর) থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ক্লিনিকটি বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, আউলিয়াপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। সেবা নিতে আসা রোগীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার থেকে টানা ছয় দিন ধরে এ ক্লিনিকের দরজা বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আউলিয়াপুর গ্রামে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে এই কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে গত রবিবার থেকে ক্লিনিকটির সেবাদান বন্ধ রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মাহাউদ্দিন লাবু বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

জানা গেছে, মাহাউদ্দিন লাবু আওয়ামী লীগের দশমিনা উপজেলা শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত রবিবার রাতে “ডেভিল হান্ট” অভিযানে দশমিনা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার অনুপস্থিতিতে ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন বহু সেবাগ্রহীতা এসে স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সেবা নিতে আসা স্থানীয় গৃহবধূ মমতাজ বেগম বলেন, “আমার কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা-জ্বর ও মাথা ব্যথা। দুই দিন (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) ক্লিনিকে এসে দেখি তালা ঝুলছে, তাই ফিরে গেছি।”

আরেক সেবাগ্রহীতা গাজী হাসান বলেন, “এভাবে ক্লিনিক কখনো বন্ধ ছিল না। কয়েকদিন ধরে জ্বর-গলা ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছি, কিন্তু ক্লিনিক তালাবদ্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে পারছি না।

আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমাদ্দার জানান, “গত রবিবার থেকে ক্লিনিকটি বন্ধ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মানুষ আসে, কিন্তু তালা দেখে ফিরে যায়। শুনেছি দায়িত্বে থাকা সিএইচসিপি জেলে আছেন। আমি প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করবো, দ্রুত যেন ক্লিনিকটি চালু করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লিনিক বন্ধ থাকার বিষয়টি দেখেছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলে আছেন কি-না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সিদ্ধান্ত এলে আমি তা বাস্তবায়ন করব।



banner close
banner close