নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতার হাতে জমজমাট আয়োজনে প্রশিক্ষণ সনদ তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা অমিত দত্ত, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম. এ জিন্নাহ, পৌর বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তোবারক হোসেন খোকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস আলম টিটু ২০২৪ সালের ৯ জুলাই ঘোষিত কমিটির উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য পদে অদ্যাবধি আছেন। জুলাই আন্দোলন ঠেকানোর জন্য বিশেষ কমিটির সদস্যও ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার খালিশাপাড়া এলাকায়। তার পিতা পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও বিরিশিরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রুহু এবং চাচা দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুস সালাম ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় অদৃশ্য থাকলেও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও নানাবিধ অবৈধ কার্যক্রমে এই পদধারী ছাত্রলীগ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যরা সক্রিয় থাকার প্রমাণ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের স্বার্থে মাঝমধ্যে ধর্মীয় লেবাস ধারণ করলেও স্থানীয় নারীরা এদের কাছে সম্পূর্ণ অনিরাপদ। ধর্ষণ, চুরি, চাঁদাবাজি, মাদকসহ ভারতীয় পণ্যের অবৈধ চোরাচালান ও লুটপাটসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তাদের পারিবারিক আমলনামার অংশ। এমনকি বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে মাথাপিছু ৬০০০ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করায় রুহু চেয়ারম্যানকে বর্তমানে পলাতক বলে দাবি করা হয়।
গত সোমবার (০৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রুসা বাংলাদেশ’ আয়োজিত “সার্টিফিকেট ইন অ্যানিমেল হেলথ অ্যান্ড প্রোডাকশন” এক বছর মেয়াদি কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
বিরিশিরি এলাকার রুসা বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুসার নির্বাহী পরিচালক এম এন আলম। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জন ক্রসওয়েল খকসি। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম. এ জিন্নাহ, পৌর বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তোবারক হোসেন খোকন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি রূপন কুমার সরকার, সাংবাদিক রাজেশ গৌড়, প্রশিক্ষক আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জনাব অমিত দত্ত বলেন, "আমি তো তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানি না। এটা ছিলো কারিগরি বোর্ডের অধীনে এবং প্রাণীসম্পদের সাথে সম্পর্কিত। আমাকে আয়োজকরা আমন্ত্রণ জানিয়েছে তাই গিয়েছি।"
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ জিন্নাহ বলেন, "প্রশিক্ষণার্থীদের কে ছাত্রলীগ করে কে জামাতে ইসলাম করে এটাতো যারা সার্টিফিকেট দিয়েছে ওখানে, যারা অতিথি ছিলো তাদের জানার কথা না। "
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের সভাপতি রুসা'র নির্বাহী পরিচালক এম. এন আলমের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা ও বিতর্কিত নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত। অন্যদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত, যিনি একাধারে বিরিশিরি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন; তার বিরুদ্ধেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগকে বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপালনের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
আরও পড়ুন:








