শনিবার

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

সড়কের জাটকা অভিযানে ভোগান্তিতে পরিবহন যাত্রীরা, বন্দরে অভিযানের দাবি

কলাপাড়া, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৪৫

শেয়ার

 

সড়কের জাটকা অভিযানে ভোগান্তিতে পরিবহন যাত্রীরা, বন্দরে অভিযানের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বিখ্যাত মৎস্যবন্দর মহিপুর ও আলীপুরে চলছে প্রকাশ্যে জাটকা ইলিশ ধরা ও বিক্রির মহোৎসব। প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকারও বেশি মূল্যের জাটকা হাতবদল হচ্ছে এই বন্দরে। অথচ ২৫ সেন্টিমিটারের নিচে ইলিশ ধরা গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নেই—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। বন্দরের প্রায় সব আড়তেই স্তূপ হয়ে আছে জাটকা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। প্রশাসনের তৎপরতা সীমাবদ্ধ সড়ক ও ট্রাক তল্লাশিতে, বন্দরে নেই কোনো দৃশ্যমান অভিযান।

পর্যটক নিকন বলেন, কুয়াকাটা থেকে ঢাকায় ফিরছিলাম, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে জাটকা অভিযান। অনেক সময় নষ্ট হয়েছে এবং ভোগান্তির শিকার হয়েছি। রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে বন্দরে করা উচিত।

একজন আড়ৎ শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিনই জাটকা আসে। মাঝে মধ্যে রাস্তায় ধরা পড়ে, কিন্তু আসল বেচাকেনা তো বন্দরে—ওটা কেউ বন্ধ করতে পারে না।

একাধিক জেলে জানান, বড় ইলিশ এখন সাগরে কম। জাল ফেললেই জাটকা উঠে আসে। জীবিকার তাগিদেই তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। তাদের বক্তব্য “সরকার যদি বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতো, তাহলে জাটকা ধরতাম না।

চালানি আড়ৎদার মো. কাওসার বলেন, বাজারে চাহিদা আছে বলেই জাটকা বিক্রি হয়। প্রশাসন চাইলে বন্দর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, কিন্তু শুধু জেলে বা আড়ৎদারকে দোষ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাতেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন জানান, মহাসড়কে অভিযান পরিচালিত হয়েছে, বন্দর এলাকাতেও শিগগিরই তদারকি জোরদার করা হবে।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, জাটকা বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা মাছ এতিমখানা ও মাদরাসায় বিতরণ করা হয়েছে। অভিযান আরও শক্তভাবে চলবে।

স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করেন—মহাসড়ক নয়, বন্দরকেন্দ্রিক নিয়মিত অভিযানই এখন জরুরি। নচেৎ ভবিষ্যতে ইলিশের প্রজনন হুমকির মুখে পড়বে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।



banner close
banner close