রবিবার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

প্রভাব খা‌টি‌য়ে সড়ক বিভাগের জায়গার শতবর্ষী গাছ কাটার অভিযোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:৪০

আপডেট: ৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:০১

শেয়ার

প্রভাব খা‌টি‌য়ে সড়ক বিভাগের জায়গার শতবর্ষী গাছ কাটার অভিযোগ
ছবি: বাংলা এডিশন

বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা থেকে রাতের আঁধা‌রে মূল‌্যবান শতবর্ষী গামার এবং মেহগ‌নি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা আশরাফুল্লাহ বাচ্চুর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৭ন‌ভেম্বর) ভোর রা‌তে জেলা শহরের তালুকদার পাড়ার পর্যটন মোটেল সংলগ্ন মৃ‌ত্তিকা অ‌ফি‌স সংলগ্ন সড়ক ও জনপথ বিভা‌গের বান্দরবান-কেরানীহাট সড়‌কের পা‌শে‌ প্রভাব খাটিয়ে প্রায় শত বছরের পুরানো গাছ কাটেন জামায়াত নেতা আশরাফুল্লাহ বাচ্চু।

স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের পাশে পর্যটন মোটেল সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় সড়ক বিভাগের জায়গায় থাকা প্রায় শত বছরের পুরানো বেশ কিছু বড় বড় মূল্যবান গামার ও মেহগ‌নি গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও কাটার জন্য আরো কয়েকটি গাছে চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে পরবর্তীতে কাটার জন্য। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে যায় আশরাফুল্লাহ বাচ্চুসহ ও গাছ কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকরা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এসব গাছ কাটা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পু্লিশ ও বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে।

তা‌রা স্থানীয়‌দের বরাত দি‌য়ে ব‌লেন, বাচ্চু নামে এক ব্যক্তি রাতে আধারে এসব গাছ কেটেছে তবে নিয়ে যেতে পারেনি। যে জায়গা থেকে গাছ কেটেছে সেখানে সড়ক বিভাগের সীমানা পিলারও রয়েছে, তা থেকে বুঝা যায় এটি সরকারি জায়গা।

তালুকদার পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ইজ্জত আলী বলেন, রাতের আধারে জায়গা দখল করার উদ্দেশ্যে বাচ্চু নামে এক নেতা সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে শত বছরের বড় বড় গাছ কে‌টে ফেলেছে। পরে আমরা স্থানীয়রা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসলে সে শ্রমিকসহ পালিয়ে যায়। আমরা চাই সরকারি জায়গা থেকে যেন কেউ গাছ কাটার সাহস না পায় তারজন‌্য বাচ্চুকে দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তি দেয়া হোক।

এদি‌কে আশরাফুল্লাহ বাচ্চু গাছ কাটার বিষয়‌টি স্বীকার ব‌লেন, এটি আমার নামীয় খ‌তিয়ান ভুক্ত জায়গা। আমি আমার জায়গায় থাকা গাছ প্রয়োজ‌নের তা‌গি‌দে কাট‌ছি। এগু‌লো আমি নি‌জেই লা‌গি‌য়ে‌ছি এবং সার প্রয়োগ ক‌রে দ্রুত বড় ক‌রে‌ছি। এগু‌লো আমি স‌মি‌লে নি‌য়ে তক্তা বা‌নি‌য়ে ফা‌র্নিচার বানা‌বো। যে‌হেতু নি‌জে ব‌্যবহার কর‌বো, তাই বন বিভা‌গের অনু‌মোদন নেইনি।

এ বিষয়ে তালুকদার পাড়ার স্থানীয় বা‌সিন্দা উলা মিয়া ব‌লেন, বাচ্চু একজন ভূ‌মিদস‌্যু। তি‌নি কোথাও খা‌লি জায়গা পে‌লেই দখল ক‌রে নেন। সড়ক বিভা‌গের গাছ কে‌টে তি‌নি জায়গা প‌রিষ্কার কর‌ছেন যেন এটিও সহ‌জে দখ‌লে নি‌তে পা‌রেন।

এ সময় বান্দরবান সদর থানার এসআই আলাউদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এটি আমরা খ‌তি‌য়ে দে‌খে ব‌্যবস্থা নিব।

সড়ক ও জনপথ বিভা‌গের সহকারী প্রকৌশলী ব‌লেন, এগু‌লো আমা‌দের জায়গার সীমানার গাছ। তাই এগু‌লো আইনী প্রক্রিয়ায় বন বিভাগ, পু‌লিশ এবং আমা‌দের নির্বাহী প্রকৌশলীর অনু‌মোদন সা‌পে‌ক্ষে যা যা করনীয় তা কর‌বো এবং দোষী‌দের বিরু‌দ্ধে ব‌্যবস্থা নিব।

এ বিষয়ে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হ‌বে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলেন, “সড়ক বিভাগের জায়গার গাছ জনগণের সম্পদ। এসব গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ।”



banner close
banner close