শনিবার

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

কুমিল্লা’য় অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক থাকে তালা বন্ধ, সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

কুমিল্লা দঃ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:৪৩

আপডেট: ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:৪৫

শেয়ার

কুমিল্লা’য় অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক থাকে তালা বন্ধ, সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা
ছবি: বাংলা এডিশন

প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের জোলাই রাজাপুর গ্রামের সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিক। ক্লিনিকটি চালু না করায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী জেলার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল নয়টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা থাকলেও নিয়ম নীতি তোয়াক্কা করছে না কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর(সিএইচসিপি)।

তৎকালীন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরোপুরি ভাবে ২০১১ সালের দিকে নগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে ওঠে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো। তবে এসব কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান ও দুর্নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর উনাইসার কমিউনিটি ক্লিনিক, সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও সদর দক্ষিণ উপজেলার জোলাই রাজাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকসহ কুমিল্লা জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৭০টি’রও বেশি ক্লিনিক গুলো থাকে সময়মত বন্ধ।

এদিকে জোলাই রাজাপুর কমিউনিটি ক্লিনিক দীর্ঘ ১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বলে ভুক্তভোগী সাধারণ রোগীরা অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে উপরোক্ত কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে বাংলা এডিশনের প্রতিনিধি দেখতে পায়-সকাল ৯টা-বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা রেখে স্বাস্থ্য সেবা ও বিনামূল্যে সরকারি ঔষধ রোগীদের দেওয়ার কথা থাকলেও ক্লিনিক নানা সময় বন্ধ থাকায় রোগীরা খালি হাতে ঔষধ না নিয়ে বাড়ি বা অন্যত্র ফিরে যায়, তাদের পক্ষে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কোন ভাবে সম্ভব না। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর (সিএইচ সিপি’রা) উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অনুমতি না নিয়ে জেলার অধিকাংশ ক্লিনিক গুলোতে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীর কাছ থেকে দশ টাকা থেকে পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ হাতিয়ে নেন।

ভোক্তভোগী এক রোগী জানান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি প্রতিটি রোগীর কাছ থেকে ১০টাকা কিংবা এর বেশি অর্থ নিয়ে সেবা দিচ্ছেন। এভাবে মাসের পর মাস অর্থের বিনিময়ে সেবা মিলে সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে। ভোক্তভোগীরা আরো জানান-সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান খুবই চরমে। সকাল ৯টার অফিস ১০টা এসে ২ ঘন্টা পর অফিসে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে যায়।

এদিকে উনাইসার কমিউনিটি ক্লিনিকের খুবই বেহাল দশা। মন চাইলে ক্লিনিকের তালা খুলে ১১টায় অফিস করেন শামসুর রহমান। প্রতিমাসে ক্লিনিক বন্ধ রেখে বৌ নিয়ে হানিমুনে যান তিনি, অভিযোগ ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের।

কমিউনিটি ক্লিনিকের নানা অনিয়মের বিষয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: রেজা মো. সারোয়ার আকবর বলেন-সময়মত অফিস না করা ও অর্থের বিনিময়ে রোগীদের সেবা দেওয়া তা অন্যায়। এমন কর্মকান্ড কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর করে থাকে তা প্রমাণাদী সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। জনবল সংকটের কারনে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে রোগীদের। জনবল সংকট সমস্যা সমাধান হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্লিনিক গুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।



banner close
banner close