নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বালু মহাল ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজের দখল নিয়ে বিএনপি নেতা দুই ভাইয়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা থেকে টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ ও তার ছোট ভাই পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজ, রাস্তা সংস্কার ও জুট ব্যবসার দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো।
বৃহস্পতিবার রাতে আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় বাঘ বাটোয়ারা নামে পরিচিত একটি স্থান ও স্থানীয় একটি কোম্পানির কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সংঘর্ষের মধ্যে চারটি ঘরে আগুন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগুন নেভাতে গেলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ওপরও ইটপাটকেল ছোড়া হয়।
সোনারগাঁ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বাড়িতে আগুন নেভানোর সময় আরেকটি বাড়িতে আগুন দেয়ার খবর পাই। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় সব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আব্দুর রউফ পন্থিরা কিছু পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যদের আশ্রয় দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান। অপরদিকে জলিলপন্থিদের অভিযোগ, রউফপন্থিরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকটি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির দুই নেতা আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিলকে থানায় আনা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যাতে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা না থাকে।
আরও পড়ুন:








