মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪জেলা) এর সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের জন্য বরাদ্ধের ৬ কোটি টাকার মধ্যে ৪ কোটি টাকা ও সরঞ্জামের ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ক্যাফ (CAF) এর নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য লালজারলম বমের নামে।
বান্দরবান জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর তথ্যমতে, মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪জেলা) এর আওতায় প্রতি উপজেলায় ৩ কোটি টাকা করে বান্দরবানের রুমা, থানচি ও আলীকদম এ ৩ উপজেলায় মোট ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০২২ সালে আলীকদমে ৬শ জন শিক্ষক ও ১৩জন সুপারভাইজার ও ২০১৮ সালে রুমার ১০২০ জন শিক্ষক ও ১৫জন সুপারভাইজার এবং থানচিতে ১হাজার শিক্ষক ও ১৫জন সুপারভাইরদের জন্য ভাতা হিসেবে এ বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতিমধ্যে রুমা ও থানচি এ দুই উপজেলার ৬মাসের জন্য বরাদ্দ দেয়া শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের ভাতার মধ্যে মাত্র দেড় মাসের ভাতা দেয়। আর বাকী টাকা শিক্ষক ও সুপারভাইরদের নামে তালিকা বানিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা আত্মসাত করে।
অফিসের কয়েকজন কর্তা জানান, এরমধ্যে এটি নিয়ে বেশ কয়েকবার তদন্ত হয়েছে। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসর ও সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর ও তার সহধর্মীনি মেহ্লা প্রু এবং তার সম্বন্ধী সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত স্তগিত করে। এমনকি এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি নেয়ার পরও মন্ত্রী নিজে ও তার পরিবারে হস্তক্ষেপে এ মামলা অগ্রসর হতে পারেনি। তাদের মতে, শুধু রুমা ও থানচি এ দুই উপজেলার বরাদ্দের ৬ কোটি টাকার মধ্যে ৪ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে লালজারলম বম। তারা আরো জানায়, ভাতার ৪ কোটি টাকা ছাড়াও সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দের ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার সবই আত্মসাত করেছেন বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য এ লালজারলম বম।
এদিকে শিক্ষক অংমেসিং মারমাসহ কয়েকজন জানান, মূল বেতন ছিল ১৪শ টাকা করে। তবে মূল বেতন আমাদের গোপন করে ১২শ টাকা করে দিবে বলেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কি যেন এক সমস্যা হয়। সে সমস্যার কথা আমাদের না জানিয়ে হঠাৎ করেই আমাদের চাকুরী চ্যুত করে এবং সাড়ে ৩ মাসের ভাতা বাবদ ৪২০০ টাকা করে দেয়। সমস্যা সমাধান হলে পরে আবার চাকুরী শুরু হবে বলে জানালেও আর কোন খবর নাই।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বান্দরবান জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মো: মঞ্জুর আহমেদ বলেন, বান্দরবানের রুমা, থানচি ও আলীকদমের প্রতি উপজেলায় ৩ কোটি টাকা করে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪জেলা) এর আওতায় মোট ৯ কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। আর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় এনজিও সংস্থা ক্যাফ (CAF) যার নির্বাহী পরিচালক ছিল বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য এ লালজারলম বম। এর মধ্যে রুমা ও থানচির সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের প্রতিমাসে ১৪০০ টাকা করে ৬ মাসের ভাতা দেবার কথা থাকলেও দিয়েছে মাত্র দেড় মাসের ভাতা। আর বাকী ভাতার ৪ কোটির পুরো টাকাই আত্মসাত করেছে। এছাড়াও অফিস সরঞ্জামের আরো ১ কোটি ২৮লক্ষ টাকার সরঞ্জাম বিতরন না করে পুরোটাই পকেটে পুরেছেন। তিনি বলেন, তখন বারবার তদন্ত হলেও তদন্তে তিনি একবারও না এসে উল্টো সাবেক মন্ত্রী ও তার সহধর্মীনি এবং তার সম্বন্ধী সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যাশৈহ্লার ক্ষমতা ব্যবহার করে দাপটের সাথে সব ধামাচাপা দেন। এছাড়া পাহাড়ী শসস্ত্র গ্রুপ কুকিচিন ন্যাশনাল (ফ্রন্ট) এর মাধ্যমেও হত্যার হুমকি দিলে তার সকল অপকর্ম ধামাচাপা পড়ে দিতে বাধ্য হই। তবে কাগজপত্রের সকল প্রমানাদি এখনো রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে লালজারলম বমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে আওয়ামীলীগের দোসর ও দূর্নীতিবাজ এমন এক ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের সদস্য করায় জেলাজুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
আরও পড়ুন:








