রবিবার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

রাউজানে বিএনপির ৫ নেতাকর্মীকে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৭:০৮

শেয়ার

রাউজানে বিএনপির ৫ নেতাকর্মীকে গুলি
গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আহত বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহতদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ১৪ বাগোয়ান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোয়েপাড়া গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে এদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর হামজারবাগ এলাকায় বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিতে এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ একজন মারা যান।

আহত নেতাকর্মীরা হলেন- রাউজান উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমন, বাগোয়ান ইউনিয়ন কৃষক দলের সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল, ওই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম চৌধুরী, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও বিএনপি কর্মী মোহাম্মদ সোহেল। আহত সবাই বাগোয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দা।

আহত পাঁচজনের মধ্যে উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ সুমনের বুকে গুলি লাগায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা সবাই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছু দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল ও একটি গাড়িতে করে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে- তা জানা যায়নি। রাতের এ গুলির ঘটনায় পুরো কোয়েপাড়া এলাকা এখন আতঙ্কে।

রাউজান উপজেলা বিএনপি সভাপতি জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজ বুধবার ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা ছিল। রাত ৯টার দিকে সভা শেষ করে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের ৫ নেতাকর্মী বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাগোয়ান কুইয়াপাড়া চৌধুরী পাড়া এলাকায় ৯ থেকে ১০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের ওপর অতর্কিত গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন তারা। রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ সুমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি দাবি করেন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইস্তিয়াক চৌধুরী অভি প্রকাশের নেতৃত্বে আলতাফ চৌধুরী টুটুল, জনি চৌধুরীসহ ৭ থেকে ৮ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদেরকে গুলি করেছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

তবে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তখন কাউকে পাইনি। বর্তমানে আমরা অভিযানে আছি। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, জানার চেষ্টা করছি। ঘটনায় জড়িতের আটকের চেষ্টা চলছে।

এর আগে সন্ধ্যায় নগরীর হামজারবাগ এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ একজন মারা যান।

প্রসঙ্গত.গত ২৫ অক্টোবর এ উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে মো. আলমগীর আলম (৫০) নামের এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতের ঘটনায় কেউ নিহত না হলেও গুরুতর আহত ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এক সপ্তাহ আগেও রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কায়কোবাদ জামে মসজিদের পাশে রশিদরপাড়া সড়কে গুলির ঘটনা ঘটে। সেবার নিহত আলম রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান এলাকার আবদুর সাত্তারের ছেলে ছিল। এ ঘটনায় সহযোগী যুবদল কর্মী রিয়াজ (৩০) ও আকিব (২৮) নামের আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।

তারও আগে (৭ অক্টোবর) হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলিতে মুহাম্মদ আবদুল হাকিম (৫২) নামের রাউজানের এক বিএনপি কর্মী নিহত হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কারণে এখানে ১৮ জন খুন হয়েছেন।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close