বগুড়ার রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি। দীর্ঘদিন পর এক নাটকীয় ঘোষণায় একসঙ্গে মা-ছেলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের খবর জানানো হলে জেলায় শুরু হয় আনন্দের বন্যা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী–শাহজাহানপুর) থেকে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মনোনয়ন পেয়েছেন। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই বগুড়াজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরের সাতমাথা, শহীদ জিয়াউর রহমান নগরী ও গাবতলী বাজার পর্যন্ত মিছিল ও শোভাযাত্রায় মুখর হয়ে ওঠে বগুড়া। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লাস করেন। রাত পেরিয়ে সকালেও ধানের শীষের স্লোগান আর খালেদা-তারেকের নাম ধ্বনিতে মুখর থাকে শহর।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হিসেবে বগুড়ায় বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এই জেলার দুই আসনেই ১৯৯১ সাল থেকে খালেদা জিয়া একাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন। এবার একই মঞ্চে মা–ছেলের অংশগ্রহণে স্থানীয় রাজনীতিতে যেন নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে।
সোমবার রাতে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার নেতৃত্বে এক বিশাল আনন্দ মিছিল দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বলেন, বগুড়ার মানুষের জন্য আজ ঐতিহাসিক দিন। মা-ছেলে দুজনই বগুড়াকে বেছে নিয়েছেন। এটি শুধু দলের নয়, বগুড়াবাসীর গর্বের বিষয়।
তিনি জানান, তারেক রহমান ফোনে বগুড়ার মানুষকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এবার বগুড়া থেকেই শুরু হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক আসনে তারেক রহমান ও আরেক আসনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ শুধু নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং বগুড়ায় বিএনপির ঐক্য, আবেগ ও প্রতীকি শক্তির প্রকাশ ঘটাবে।
আরও পড়ুন:








