ভোলায় শত শত মনোমুগ্ধকর আধুনিক আলোকসজ্জা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নান্দনিক মসজিদ থাকলেও এর বিপরীতে গ্রামাঞ্চলের অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই রয়েছে অবহেলিত ও নাজুক অবস্থায়। তেমনই এক দৃষ্টান্ত দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর লামছি পাতা গ্রামের আল মদিনা জামে মসজিদ।
লামছি পাতা গ্রামের সুবেদার মোড় সংলগ্ন জাহাঙ্গীর মিয়ার ব্রিকস মিলের সামনে অবস্থিত এই মসজিদটি প্রায় ৩০ বছর আগে এলাকাবাসীর দান ও স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারে মসজিদটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় দুই বছর আগে নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শুরু হয় নির্মাণকাজ, তবে ১৩ লক্ষ টাকার কাজ সম্পন্ন করতেই অর্থ সংকটে পড়ে মসজিদ কমিটি। এখনো মসজিদের বাকি কাজ সম্পন্ন করতে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।
পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। এতে নামাজ আদায়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার মুসল্লিরা।
মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মাইনুদ্দিন জানান, দুই বছর ধরে পাশের একটি ছোট মাদ্রাসায় নামাজ আদায় করছি। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় গাদাগাদি করে নামাজ পড়তে হয়। শুক্রবারে অবস্থা আরও করুণ—অনেকে রোদে-বৃষ্টিতে বাইরে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করেন।
স্থানীয় মুসল্লি আনিসুল হক বলেন, দুই বছর আগে নির্মাণ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত দেয়াল বা ছাদ কিছুই করা সম্ভব হয়নি। অর্থের অভাবে কাজ বন্ধ হয়ে আছে, আর যে অংশ করা হয়েছিল সেটিও নষ্টের পথে। তাই সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা খুব জরুরি।
এ বিষয়ে চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সবুজ মিয়া বলেন, মসজিদের কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি এখন জানলাম। মসজিদ কমিটি যদি ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করে, তাহলে বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়তি রাণী কৈরি বলেন, মসজিদ ম্যানেজিং কমিটির কেউ যদি লিখিত আবেদন করে, তাহলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষদের আহ্বান—দারিদ্র্য নয়, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আল মদিনা জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে যেন মুসল্লিরা আবার স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।
আরও পড়ুন:








