রবিবার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন; দুই ইউনিয়নের নয়টি গ্রাম নদীগর্ভে

সিরাজগঞ্জ, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:২৬

শেয়ার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন; দুই ইউনিয়নের নয়টি গ্রাম নদীগর্ভে
ছবি: বাংলা এডিশন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের নয়টি গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

প্রভাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে সোনাতনী ইউনিয়নের মাকড়া, ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, বারপাখিয়া, লোহিন্দাকান্দি এবং গালা ইউনিয়নের বৃ-হাতকোড়া ও মোহনপুর। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এসব এলাকায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, দুটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা ও একটি কবরস্থান নদীতে তলিয়ে গেছে। ধীতপুর ও কুরসি গ্রামের দুটি হাট-বাজারের অর্ধেক অংশও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ভাঙনের কারণে ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এসব এলাকায় আগে ব্যাপকভাবে পটল, বেগুন, ধান, বাদাম, মাষকলাই, সবজি, ধনিয়া ও বাঙ্গীসহ নানা ফসলের চাষ হতো। কৃষিজ উৎপাদনের পাশাপাশি পশুপালন ও হাঁস-মুরগি লালন করে স্থানীয়রা জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ভাঙনে জীবিকার সব উৎস ধ্বংস হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর নতুন করে ভাঙন শুরু হয় এবং বসতভিটা, হাট-বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো নদীতে হারিয়ে যায়।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত পাঁচ-ছয় বছরে সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের প্রায় ২৭০ হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চলতি মৌসুমের ভাঙনে আরও ৭০ থেকে ১০০ হেক্টর ফসলি জমি হারিয়েছে কৃষকরা। অপর প্রান্তে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হেক্টর নতুন বালুচর জেগে উঠেছে, তবে তা এখনও আবাদযোগ্য নয়।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভাঙনের ফলে শাহজাদপুরের সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। নদীভাঙনে প্রতিদিন নতুন নতুন ঘরবাড়ি, জমি ও স্থাপনা যমুনার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে।



banner close
banner close