রবিবার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে জয়পুরহাটের আলু চাষিরা

জয়পুরহাট, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০৮

আপডেট: ১ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:৫৪

শেয়ার

দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে জয়পুরহাটের আলু চাষিরা
ছবি: বাংলা এডিশন

দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জয়পুরহাটের আলু চাষিরা। নিজেদের প্রধান ফসল আলুতে এ বছর কপাল পুড়ছে তাদের। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের নির্ধারিত দরে আলু কিনে বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, এ বছর জয়পুরহাট জেলায় ২১টি হিমাগারে মোট ২ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত করা হয়েছিল। অতিরিক্ত লাভের আশায় যেসব কৃষক ও ব্যবসায়ী আলু সংরক্ষণ করেছিলেন, এখন সেই আলুই তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলু চাষি মুমিন জানান, মৌসুমের শুরুতেই বীজ আলুর বাজার ছিল সিন্ডিকেটের দখলে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বীজ আলু ও সার কিনতে হয়েছে তাদের। ফলে বিঘা প্রতি খরচও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে আলু ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে তারা কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য প্রতি বস্তায় খরচ করেছেন ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। ফলে প্রতি বস্তায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

এম ইশরাত হিমাগারের ম্যানেজার রাইহান আলম বলেন, গত বছর এ সময়ের মধ্যে হিমাগার থেকে বেশিরভাগ আলু খালাস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার এখনো অর্ধেক আলুও বের হয়নি।

আফিয়া কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে হিমাগারে ২২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির কথা বলা হলেও সেই দামে আলু বিক্রি হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা যদি ২২ টাকায় কিনেও নেয়, তারা কোথায় বিক্রি করবে? এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও আলু ক্রয়ের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা বা চিঠি এখনো হিমাগারগুলোতে আসেনি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, গত অর্থবছরে জেলায় প্রায় ৪৩ হাজার ৪৭০ মেট্রিক টন আলুর আবাদ হয়েছিল। গত বছর দাম বেশি থাকায় চাষও বেশি হয়েছিল। কিন্তু এ বছর দাম না উঠায় সরকারিভাবেও লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, জেলায় এখনও এক লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি আলু মজুদ রয়েছে। আলু খালাসের পরিমাণ তুলনামূলক কম। সরকারের নির্ধারিত ২২ টাকা কেজি দরে আলু কেনাবেচা না হলেও আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করছি। মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



banner close
banner close