যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামী আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেছেন, বিপ্লবের পর দেশে একটি নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের গণস্বীকৃতির জন্য গণভোট অপরিহার্য। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল গণভোটের বিরোধিতা করছে, যা দুঃখজনক ও গণতন্ত্রবিরোধী। কেউ যদি নতুন করে স্বৈরাচার কায়েমের চেষ্টা করে, সাধারণ জনগণই তাদের প্রতিহত করবে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে যশোরের রূপদিয়া বাজারে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে। এ হত্যার বিচার দৃশ্যমান না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না। তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে, অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করতে হবে—তাহলেই দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই চেতনা ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশের শিক্ষিত যুব সমাজ বেকার থাকবে না, ঘুষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।
গ্রামীণ কৃষকদের সততার প্রশংসা করে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, “গ্রামের কৃষক দেশের সম্পদ চুরি করে না, চুরি করে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলরা। হাজার চেষ্টা করেও জামায়াতে ইসলামীর কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি ফ্যাসিস্ট সরকার।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আর হারানোর কিছু নেই। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পথেই থাকব। বাংলার মাটিতে জামায়াতে ইসলামী এখন আরও শক্তিশালী। আগামীর বাংলাদেশ হবে আদর্শ, ন্যায় ও ইসলামী মূল্যবোধে গঠিত বাংলাদেশ। কেউ যদি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়, এদেশের নারীরাই তাদের ঝেটিয়ে বিদায় করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের বলেন, যশোরের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। স্বাধীনতার পর থেকে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, কেউ সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেনি। তারা এসেছে শাসন করতে, দেশের সম্পদ লুট করে নিজেদের সম্পদ বাড়াতে।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২৩৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে, অসংখ্য মানুষকে গুম করেছে ও বিনা বিচারে জুলুম চালিয়েছে। কিন্তু এখন মানুষ জেগে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর গণজাগরণ কেউ দমন করতে পারবে না। বাংলাদেশে আর রাতের ভোট বা ডামি নির্বাচন হবে না। যারা কেন্দ্র দখল করে জেতার স্বপ্ন দেখে, তাদের সে স্বপ্ন আর কখনও পূরণ হবে না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি সাইফুর রহমান মনির।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক খান, সদর থানার আমির অধ্যাপক আশরাফ আলী এবং সদর উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ফেরদৌস হাসান জহির।
পথসভা শেষে রূপদিয়া বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা চালান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন:








