রবিবার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

সিরাজগঞ্জে রেজিস্ট্রি অফিসে জালিয়াতি: ভারতে থাকা ব্যক্তির জমি রেজিস্ট্রি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:১৯

শেয়ার

সিরাজগঞ্জে রেজিস্ট্রি অফিসে জালিয়াতি: ভারতে থাকা ব্যক্তির জমি রেজিস্ট্রি
ছবি: বাংলা এডিশন

প্রায় দুই দশক ধরে ভারতে অবস্থান করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার গাবগাছী গ্রামের জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দার। ২০০৭ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র করতে স্বল্প সময়ের জন্য দেশে এসে ফিরে যান তিনি। এরপর থেকে আর দেশে আসেননি এবং নিজ নামে থাকা জমিও বিক্রি করেননি।

তবে সম্প্রতি ওই জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি হয়েছে বেলকুচি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। অভিযোগে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা, অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ও দলিল লেখক আব্দুল মতিনের সহযোগিতায় ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। ঘটনাটির মূল উদ্যোক্তা হিসেবে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সমীরন মণ্ডলের নাম উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় দলিল বাতিলের আবেদন জানিয়ে বেলকুচি সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর ভাতিজা উত্তম কুমার পোদ্দার। অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দারের নামে রেকর্ডভুক্ত বাড়ি ও ফসলি জমির ২৮.৩৮৩ শতাংশ অংশ বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দারের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিলে সাক্ষী ও সনাক্তকারী হিসেবে ছিলেন ক্রেতার মেয়ে জামাই সমীরন মণ্ডল। কিন্তু জমির প্রকৃত মালিক জিতেন্দ্র নাথ তখন ভারতে অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেজিস্ট্রির পর থেকে সমীরন মণ্ডল ওই জমি বিক্রির চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে বাড়িতে থাকা দুটি ঘর ও স্থাপনাও ভেঙে বিক্রি করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দার বয়সে প্রবীণ এবং তার কোনো পুত্রসন্তান নেই। একমাত্র মেয়ে ও মেয়ের জামাই সমীরন মণ্ডলই সম্পত্তির ওয়ারিশ হওয়ার সুযোগ নিতে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করেন।

স্থানীয়দের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের জাল দলিল সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আদালতই সিদ্ধান্ত দেবে। তিনি জানান, তার নির্দেশে একটি কমিশন গঠন করে অফিস সহকারীর নেতৃত্বে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন জানান, কোনো অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বেলকুচি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দলিলপ্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং কর্মকর্তাদের অনৈতিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত।



banner close
banner close