টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বেসরকারি সিটি হার্ট ক্লিনিকে ডেলিভারির সময় ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারিয়েছেন মাসুমা আক্তার নামে এক নারী।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের জামাল ভূইয়ার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে বুধবার ভূঞাপুরের বেসরকারি সিটি হার্ট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুর ২টায় সিজারের জন্য তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। সিজার করেন ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসক ডা. এনামুল হক সোহেল। ওই ক্লিনিকটির পার্টনারও তিনি নিজেই।
অপারেশনের পর মাসুমার অবস্থার অবনতি হলে কোথাও স্থানান্তর না করে ক্লিনিকেই ফেলে রাখা হয়। অপারেশন থিয়েটারেই মারা যান মাসুমা।
স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পরও প্রায় ছয় ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারেই ফেলে রাখা হয় তার মরদেহ। সে সময় কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হয়নি। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য’ অন্যত্র রেফার করা হয়।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্লিনিক প্রাঙ্গণে শুরু হয় স্বজনদের কান্না-আহাজারি। বন্ধ করে দেওয়া হয় ক্লিনিক, পালিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন রাতেই ভূঞাপুর থানায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মীমাংসার আয়োজন হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। সে সময় তথাকথিত সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। ৫ লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা পুলিশ, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদের হাতে ঘুরেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. এনামুল হক সোহেল মুঠোফোনে বাংলা এডিশনকে বলেন, বিষয়টা মীমাংসা হয়ে গেছে, এখন আর কিছু বলার নেই।
ঘটনার পর ক্লিনিকের দরজায় তালা ঝুলছে। যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি কর্তৃপক্ষের কাউকে।
অন্যদিকে, থানায় মীমাংসার সুযোগ নেই ও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভূঞাপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।
আরও পড়ুন:








