চাঁদপুর সদর উপজেলার সাত নং তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাভুক্ত চাল ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে সংরক্ষণের অভিযোগের পর অবশেষে ওই চাল কার্ডধারী উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলা এডিশনে চাঁদপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরেই ডিলার মো. আইয়ুব আলী দ্রুত চাল বিতরণের উদ্যোগ নেন।
সংবাদ প্রকাশের পর বিকেলে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে থাকা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের সময় কার্যালয়ের বাইরে থাকা ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়। একই সাথে কার্যালয়ের ভেতরে টানানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি, ব্যানার ও অন্যান্য দলীয় প্রতীকও অপসারণ করা হয়।
যে অফিসটিতে চাল রাখা হয়েছিলো, সেটি আমাদের ব্রেজারের অফিস। পাশাপাশি দুটি দোকানের একটিতে অন্যান্য মালামাল থাকায় চালগুলো সাময়িকভাবে ওই দোকানে রাখা হয়, যেখানে ‘বিএনপি কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড ছিলো। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমরা সময়মতো চাল বিতরণ করতে পারিনি। তবে বিকাল তিনটার পরই চাল বিতরণ সম্পন্ন করেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
দোকানটি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সেখানে সরকারি চাল কেন রাখা হয়েছিলো, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।
খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ডিলাররা তাদের নিজস্ব অনুমোদিত গুদামে সরকারি চাল সংরক্ষণ করবেন, এমনটাই নিশ্চিত করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান খান।
তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ডিলারদের চাল নিজেদের নির্ধারিত গুদামে রাখতে হয়। অন্য কোথাও সংরক্ষণের অনুমতি নেই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য প্রতি কেজি ১৫ টাকায় ৩০ কেজি করে চাল বিতরণের দায়িত্বে আছেন ডিলার আইয়ুব আলী খন্দকার। নিয়ম অনুযায়ী, এসব চাল কাশিম বাজার এলাকায় নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিতরণের কথা থাকলেও চালগুলো রাখা হয়েছিল জিএম স্কুল সংলগ্ন দোকানে, যা ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলো এবং নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এদিকে বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ও স্থানীয়দের নজরে বিষয়টি আসায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বিতর্কিত স্থান থেকে চাল অপসারণ ও দ্রুত বিতরণ করা হলেও সরকারি চাল রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংরক্ষণের ঘটনাটি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন থেকেই যায়।
আরও পড়ুন:








