সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি খাস জমি মালিকানায় রূপান্তর, খারিজ ও নামজারির নামে অর্থ আদায়, ফাইল আটকে ঘুষ নেয়া এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় নথি নিষ্পত্তির ঘটনাগুলো স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে সদ্য বদলীকৃত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাসান আলীর নাম উঠে এসেছে। তিনি সম্প্রতি শিয়ালকোল থেকে বদলি হয়ে নাটুয়ারপাড়া ভূমি অফিসে যোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্বকালীন সময়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করা হতো। কাজ সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পর আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কেউ কেউ অর্থ ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
শিয়ালকোল ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমি অফিসে খারিজ ও নামজারীর জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতো। দালালের মাধ্যমে এসব লেনদেন চলত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফাইল নিষ্পত্তির গতি নির্ভর করত কে কত টাকা দিয়েছে তার ওপর।
অফিসের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, হাসান আলীর সময়ে নামজারির ফাইলগুলো চিহ্নিতভাবে ভাগ করা হতো, যেসব ফাইলের সাথে আর্থিক লেনদেন থাকতো, সেগুলোর নিষ্পত্তি আগে করা হতো। এতে সহযোগিতা করতেন সার্টিফিকেট পেশকার, সার্ভেয়ার ও কানুনগোসহ অফিসের কয়েকজন কর্মচারী।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কিছু নথি দাখিল করতেন, যার ফলে হাজিরা বা নোটিশ সম্পর্কিত তথ্য অনেক আবেদনকারী সময়মতো পাননি। এতে বেশ কিছু আবেদন বাতিল হয়, যা পরবর্তীতে পুনরায় প্রক্রিয়াকরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থের দাবি তোলা হয়।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ ছিলো। পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে নানা অভিযোগের ভিত্তিতে তার পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বদলি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনায় আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এসব অনিয়মের তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি তদন্ত দাবি করেছেন।
এসব বিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাসান আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








