সিরাজগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার তেরো ইউনিয়নে কৃত্রিম প্রজনন (এআই) টেকনিশিয়ান পদে ব্যাপক অনিয়ম ও অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৪ জনকে বেআইনিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নিয়োগে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে এবং পরবর্তীতে সরঞ্জাম দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে আরও ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাব ও যোগসাজশে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৈধ প্রার্থীরা আদালতে মামলা করেছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ইউনিয়নে একজন করে স্বেচ্ছাসেবী এআই টেকনিশিয়ান নিয়োগের বিধান রয়েছে। একই ইউনিয়নে একাধিক প্রজনন পয়েন্ট স্থাপন না করার নির্দেশনা থাকলেও সেটি উপেক্ষা করে অবৈধ নিয়োগ দেওয়া হয়।
কোথায় কীভাবে অনিয়ম
কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নে বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত ফিরোজ মল্লিকের স্থলে আলমগীর নামের একজন অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা (নং: ৩৫/২০২৫) দায়ের করা হয়েছে।
রায়দৌলতপুর, ভদ্রঘাট, শিয়ালকোল, বহুলী, কালিয়াহরিপুর, ধুবিল, ব্রক্ষ্মগাছা, চান্দাইকোনা, পাঙ্গাসী, মোহনপুর, নওগাঁ ও মাগুরা ইউনিয়নেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ইউনিয়নে বৈধ প্রার্থীদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কেউ সরকারি সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন, কেউ আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকেও সরকারি পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশের কাছে কোনো বৈধ অনুমোদন বা নথিপত্র নেই। ফলে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং বৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এআই নিয়োগ বিষয়টি তার বিভাগের আওতায় নয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় নতুন উপপরিচালক যোগদানের পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হবে।
অন্যদিকে, ঈশ্বরদী জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








