ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামে আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুপিসারে অভিযান চালিয়ে ৫ জন অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারিকে হাতেনাতে ধরেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ হাজার ২ শত ফুট অবৈধ গ্যাস সংযোগ পাইপ বিচ্ছিন্ন এবং ৩ হাজার ফুট পাইপ লাইন অকার্যকর করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৯ শে অক্টোবর) বেলা ১১টায় সদর উপজেলার বিজেশ্বর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৫ জন অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীকে ৩৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিজা খাতুন এবং বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক, কুমিল্লা প্রধান কার্যালয়ের ভিজিলান্স টিমের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর বাদশা।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ থাকার সুযোগে অসাধু চক্র জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে অভিযান চালায় বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে বিজেশ্বর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩ হাজার ২ শত ফুট গ্যাসের পাইপ উচ্ছেদ এবং পৃথক তিনটি জায়গায় ৩ হাজার ফুট অবৈধ পাইপ লাইনে সিমেন্ট ঢুকিয়ে অকার্যকর করা হয়।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ এর মূল হোতা রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আতিকুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং আরো চারটি অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়৷
গ্রামের একজন যুবক ফোন করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা এডিশনকে বলেন, আমরা খবর পেয়েছি গ্রামের এই চক্রটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রেখেছেন৷ সেজন্য কোন অভিযান শুরুর আগেই অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকরীরা খবর পেয়ে যান৷ সে জন্য নামকাওয়াস্তে অভিযান পরিচালনা হলেও হাতে নাতে কেউ ধরা পড়েন না। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন করে আলামত মুছে ফেলেন৷ কিন্তু আজকে বিশেষ টিম হুট করে অভিযান চালিয়েছে। তাই হাতেনাতে কয়েকজন অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী ধরা পড়েছেন।
এই হুইসেল ব্লোয়ার আক্ষেপ করে বলেন, বিজেশ্বর গ্রামে অন্তত ২৫০ অবৈধ গ্রাস সংযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের আমল থেকে এরা প্রায় দেড় দশক থেকে এই সংযোগ ব্যবহার করে আসছে।
সাবেক মেম্বার আতিকুর রহমানের ছেলে রিপন বাংলা এডিশনকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছি অস্বীকার করছি না। আমাদের আজকে ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাডাম ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। কিন্তু আমরা এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। সবকিছুর মূলে রয়েছে বিজেশ্বর গ্রামের বড় বাড়ির আল আমিন।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক জানান, অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করার কিছুদিনের মধ্যেই আবারও কিছু অসাধু চক্র নতুন করে অবৈধ সংযোগ দেয়। এর ফলে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে ধারাবাহিক অভিযান চলতেই থাকবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:








