ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বড়বাকাইল গ্রামের কৃষকদল আহবায়ক হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগে উত্তাল স্থানীয় জনপদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় মামলা-হামলা, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে হোসেন মিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাসুম বিল্লাহ ও ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন শোভনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শোভনের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালও হয়।
বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী বিল্লাল মিয়ার অনুপস্থিতিতে তার চুনের ফ্যাক্টরি থেকে হোসেন মিয়ার অনুসারীরা কয়েকশ বস্তা চুন সরিয়ে নেয়, যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। বাধা দিতে গেলে বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী সাবিনা আক্তারকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় নারী জরিনা বেগম অভিযোগ করেন, হোসেন মিয়া আমাকে কুপ্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় ১৫ লাখ টাকার মিথ্যা চেক মামলা করে হয়রানি করছে।
গ্রামবাসীর দাবি, হোসেন মিয়া তার ভাতিজা রাশেদুল ইসলাম বাবু, বিল্লাল মিয়া ও সোহেল মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে প্রতিশোধ নেন।
ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া বলেন, তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করেন এবং মুক্তি দিতে চাঁদা দাবি করেন।
সম্প্রতি হোসেন মিয়ার একটি গোপন মিটিংয়ের অডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তাকে নিজের মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খুনের মামলা সাজানোর পরিকল্পনা করতে শোনা যায়। বিষয়টি প্রকাশ হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় অভিযুক্ত হোসেন মিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলা কৃষকদল আহবায়ক এমরান আহমেদ রনি বলেন, ‘ঘটনাগুলো পারিবারিক কোন্দল হতে পারে। তবে লিখিত অভিযোগ এলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।’
আরও পড়ুন:








