ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারিদের হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র উদ্যোগে রেলস্টেশন চত্বরে এক প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে “ব্ল্যাককার মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই” স্লোগানে অংশ নেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় নাগরিকরা। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রেল টিকিট সংগ্রহ করে বাড়তি দামে বিক্রি করছে, যার ফলে প্রকৃত যাত্রীরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা জানান, সম্প্রতি এই কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে গেলে ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র কয়েকজন সদস্যের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এটি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার দমনের প্রচেষ্টা বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এসময় বক্তারা টিকিট কালোবাজারি রোধে চার দফা দাবি জানান –
১) টিকিট বিক্রিতে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
২) কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা।
৩) হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
৪) সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সহজ টিকিট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন জেলার প্রবেশদ্বার— এটি সবার সম্মানের প্রতীক। এখানে কোনো দুর্নীতিবাজ বা কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্য চলবে না।
প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো রেলস্টেশন এলাকা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেশন চত্বরে এসে শেষ হয়।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। হামলায় জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। টিকিট কালোবাজারি বন্ধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুললে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের হয়রানি রোধ ও টিকিট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ চলছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবাদী সমাবেশে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা একস্বর কণ্ঠে বলেন – ব্ল্যাককার নয়, ন্যায্য টিকিট চাই, সাধারণ যাত্রীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
আরও পড়ুন:








