ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ইতালিতে থাকা স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হয়েছে নাট্যকর্মী স্বামী শামীম আকতারের।
সোমবার বিকালে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের কাশিডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শামীম আকতার ওই গ্রামের পজির উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয় ও বেসরকারি টেলিভিশনের নাটকে অভিনয়ের কারণে এলাকায় নাট্যকর্মী হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল তার।
শামীম আকতারের ভাই জাপান জানান, ইতালিতে থাকা ভাবি মোবাইলে জানান যে শামীম ঘরের ভিতর গলায় ফাঁস দেয়ার চেষ্টা করছেন। বাজার থেকে ছুটে আসার আগেই মারা যায় শামীম। দরজা ও বাড়ীর গ্রিল বন্ধ ছিল। পরে দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতর ঢুকে দেখি ঝুলন্ত অবস্থায় আছে শামীম।
স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুই মাস আগে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন শামীম আকতার ও স্ত্রী মুক্তা আক্তার। ভিসা জটিলতার কারণে স্ত্রী চলে গেলেও স্বামী আটকে যান। চেষ্টা করছিলেন ভিসা জটিলতা কাটিয়ে স্ত্রীর কাছে যাওয়ার।
শামীমের ভাই জানান, ইতালিতে ভাবি যাওয়ার পর কাজে যোগ দিতে পারেনি। তার ভরণ পোষণের জন্য প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। টাকার জন্য খুব চাপে ছিল শামীম। আজ কি হয়েছে কেউ বলতে পারছি না।
প্রতিবেশীরা বলছেন, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রচন্ড ভালোবাসা ছিল দুজনের। এক মুহুর্ত দুজনের বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারতো না শামীম ও তার স্ত্রী। দুই প্রান্তে দুজন এবং টাকার দুশ্চিন্তায় শামীম এমন পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা অনেকের।
বালিয়াডাঙ্গী টাইগার নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য নাট্যকর্মী আশরাফুল ইসলাম জানান, শামীম সচেতন ব্যক্তি ছিল। তার অভিনয় দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। সেই শামীম এমন অঘটন ঘটাবে। আমরা ভাবতে পারিনা। তার মৃত্যুতে সবাই শোকাহত।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি তদন্ত দিবাকর অধিকারী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রাথমিক সুরত হাল প্রতিবেদনের কাজ করছে। পরিবারের স্বজনদের সাথে কথা বলার পর বাকি বিষয়ে বলা যাবে।
আরও পড়ুন:








